© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

টানা ৪ বিশ্বকাপে নকআউটে গোলহীন ছিলেন মেসি

শেয়ার করুন:
টানা ৪ বিশ্বকাপে নকআউটে গোলহীন ছিলেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১১ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
লিওনেল মেসির হাত ধরেই ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। কাতারে তাঁর ‘ওয়ান ম্যান শো’ আলবিসেলেস্তাদের এনে দিয়েছিল পরম আরাধ্য সেই সোনালী ট্রফি। ২২তম বিশ্বকাপের আগে আরও চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন এলএমটেন। আর আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠে গড়ালেই মেসির নামের পাশে যুক্ত হবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনন্য এক কীর্তি।

বৈশ্বিক এই আসরে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা হবে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও এবার এই সংখ্যাটি স্পর্শ করবেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে এটি।



পাঁচটি আসরে ২৬টি ম্যাচ খেলা এবং ২ হাজার ৩০০ মিনিটেরও বেশি সময় মাঠ কাঁপানো মেসির ২০২২ বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত একটি বড় আক্ষেপ ছিল। ২০০৬ থেকে ২০১৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মোট ১৯টি ম্যাচ খেললেও নকআউট পর্বে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। যদিও এই সময়ে গ্রুপ পর্বে তাঁর পা থেকে এসেছিল ৬টি গোল।

২০০৬ বিশ্বকাপ (জার্মানি): মাত্র ১৮ বছর বয়সে মেসি তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন। এই আসরে মূলত বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি ম্যাচ মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। গ্রুপ পর্বে সার্বিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন মেসি, যেখানে আর্জেন্টিনা ৬-০ ব্যবধানে জয় পায়। আসরে তাঁর গোল ও অ্যাসিস্ট ছিল একটি করে।

২০১০ বিশ্বকাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে এই বিশ্বকাপে মেসি ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। তবে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার এই আসরটি মেসির জন্য ছিল সম্পূর্ণ গোলহীন। ৫ ম্যাচ খেলে সেবার কেবল একটি অ্যাসিস্ট করতে পেরেছিলেন তিনি।

২০১৪ বিশ্বকাপ (ব্রাজিল): অধিনায়ক হিসেবে এটি ছিল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ। তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়। নকআউট পর্বে কোনো গোল না পেলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ জেতেন মেসি। পুরো আসরে ৭টি ম্যাচ খেলে তিনি ৪টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেন। যার মধ্যে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল ছিল তাঁর-বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১টি, ইরানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক ১টি এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল।

২০১৮ বিশ্বকাপ (রাশিয়া): আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল চরম অগোছালো একটি টুর্নামেন্ট। শেষ ১৬-তে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় দল। ৪ ম্যাচে মেসির গোল ছিল ১টি এবং অ্যাসিস্ট ২টি। গ্রুপ পর্বের বাঁচা-মরার ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে করা চোখধাঁধানো গোলটি ছিল এই আসরে তাঁর একমাত্র গোল।

২০২২ বিশ্বকাপ (কাতার): পূর্বের সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে এই বিশ্বকাপে একক আধিপত্য দেখান মেসি। তাঁর পায়ের জাদুতে ৩৬ বছরের বিশ্বজয়ের খরা কাটায় আর্জেন্টিনা। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপে (শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল) গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭টি গোল করে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো জিতে নেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন