রুশ বাহিনীর কাছে বিক্রি ৩০ যুবককে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৪ পিএম | ০২ জুন, ২০২৬
রাশিয়ায় ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে পাঠিয়ে প্রতারণার দায়ে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতারণার শিকার এসব যুবককে দেশে ফেরাতে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতকে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো এজেন্সির অসততার কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করা হবে।’
উচ্চ বেতন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ৩০ বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের কথা বলে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকা করে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে জাবালে নুর নামে এক এজেন্সি ও দালাল চক্র।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো হলো- আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এবং জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু নাগরিকদের যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের পূর্বে তাদের বৈধতা ও কাজের শর্তসমূহ সঠিকভাবে যাচাই করার জন্য পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রবাসী কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কী করবে।’
মন্ত্রী জানান, ‘আমরা যে ফ্যাসিলিটিটা দেব, সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। কিন্তু এখানে তার কারেন্সি সুবিধাটা কিভাবে পেতে পারে, তাদের সহজ রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কী বেনিফিট নিতে পারে, ব্যাংক পেমেন্টের গেটওয়েটা কিভাবে হবে, তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র, এই কার্ডের সঙ্গে ট্র্যাকিং থাকবে।’
আরআই/টিকে