বিশ্বকাপে আসছে আরও আধুনিক অফসাইড প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৪ পিএম | ০৩ জুন, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপে আরও উন্নত ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফিফা। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবার চালু হওয়া সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিতে কোনো খেলোয়াড় ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকলে সেটি কর্মকর্তাদের জানানো হতো। তবে নতুন সংস্করণে সেই সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১০ সেন্টিমিটারে।
ফিফার নতুন প্রযুক্তির আওতায় কোনো খেলোয়াড় ১০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সহকারী রেফারিদের ইয়ারপিসে অডিও সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। ফলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) নির্দেশনার জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।এতে সহকারী রেফারিরা দ্রুত পতাকা তুলতে পারবেন এবং খেলা অযথা চালিয়ে নেয়ার প্রয়োজন কমে যাবে। ফিফার বিশ্বাস, এতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিও অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইংলিশ ক্লাব নটিংহ্যাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার তাইও আওনিয়ি ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার শিকার হন। অফসাইড অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও খেলা চালু থাকায় পোস্টের সঙ্গে সংঘর্ষে পেটে গুরুতর চোট পান তিনি। পরে তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনা ফুটবলে অফসাইড সিদ্ধান্ত দ্রুত দেয়ার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সহকারী রেফারিদের নির্দেশ দেয়া ছিল, আক্রমণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পতাকা না তুলতে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন প্রযুক্তির কারণে খেলা অনেক দ্রুত থামানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ব্যবধানের অফসাইড নির্ধারণে এখনও রেফারিং টিমের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ প্রযুক্তি সবক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না।বিশেষ করে কোনো খেলোয়াড় বল স্পর্শ না করেও প্রতিপক্ষের খেলায় হস্তক্ষেপ করেছেন কিনা—এ ধরনের বিষয় এখনও মানবিক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই প্রযুক্তি সমর্থক ও খেলোয়াড়দের হতাশা অনেকটাই কমাবে বলে মনে করছে ফিফা। অফসাইড সিদ্ধান্তকে আরও নিখুঁত করতে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া সব খেলোয়াড়ের থ্রিডি অবতারও তৈরি করবে ফিফা। ৪৮ দলের মোট এক হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড়কে ডিজিটালি স্ক্যান করে তাদের এআই অবতার তৈরি করা হবে, যা অফসাইড বিশ্লেষণে সহায়তা করবে।
এছাড়া গোলরক্ষকের দৃষ্টিসীমায় কোনো খেলোয়াড় বাধা সৃষ্টি করেছেন কিনা, তা নির্ধারণে ভিএআরের জন্য নতুন ‘লাইন অব সাইট’ অ্যাঙ্গেলও যুক্ত করা হয়েছে।শুধু অফসাইড নয়, বল মাঠের বাইরে গেছে কিনা, সেটিও এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা হবে।গোললাইন প্রযুক্তির মতোই নতুন সিস্টেম বল ও মাঠের লাইনের থ্রিডি অ্যানিমেশন তৈরি করে দেখাবে বল পুরোপুরি মাঠের বাইরে গিয়েছিল কিনা।বলটির ভেতরে বিশেষ চিপ ব্যবহার করা হবে, যার মাধ্যমে শেষবার কোন দল বল স্পর্শ করেছে সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ফলে কর্নার কিংবা থ্রো-ইনের সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল হবে বলে আশা করছে ফিফা।
নতুন প্রযুক্তি এমন বিতর্কও কমাতে পারে, যেমনটি হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাস্টন ভিলার এক গোল বাতিলের ঘটনায়। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বল মাঠের বাইরে গিয়েছিল কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় বিতর্ক।
এমআর/টিকে