© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণের ৬৩ ওয়ার্ড: ডিএসসিসি প্রশাসক

শেয়ার করুন:
ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণের ৬৩ ওয়ার্ড: ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫০ এএম | ০৫ জুন, ২০২৬
বর্ষা মৌসুমের আগে পরিচালিত এডিস মশার লার্ভা জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৩টি ওয়ার্ডই ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কিত এক অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জরিপের বিস্তারিত ফলাফল ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আবদুস সালাম বলেন, গেল ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী পরিচালিত মশক জরিপে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট দুই হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।

তথ্য সংগ্রহে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক কোবো টুলবক্স ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ‘জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স ও পিউপা ইনডেক্সের ভিত্তিতে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের ভিত্তিতে ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিদর্শন করা দুই হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে। আক্রান্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বহুতল ভবনে ৩৫.২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মীয়মাণ ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ ও সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

আবদুস সালাম বলেন, জরিপে মশার প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পানি ধারণকারী পাত্র চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ড্রাম, মেঝেতে জমে থাকা পানি ও বালতিতে জমে থাকা পানিতে উল্লেখযোগ্য হারে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। ডিএসসিসি প্রশাসকের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন