© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৬ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন:
৬ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩৮ এএম | ০৫ জুন, ২০২৬
দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে এক কলেজ শিক্ষকসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও বগুড়ায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় বিকেলে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে এবং পেশায় ট্রাক্টরের সহকারী ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু জানান, ফসলি জমি থেকে ভুট্টা পরিবহনের সময় ট্রাক্টরের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। সেটি তোলার জন্য বাড়ি থেকে বেলচা নিয়ে ঘটনস্থলে ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন শাহাদাত। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় তিনজন, সদর উপজেলায় একজন এবং নাচোল উপজেলায় একজন রয়েছেন। বিকেলে বৃষ্টির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শিবগঞ্জ উপজেলায় নিহতরা হলেন- চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, এই তিনজনই বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন।

এছাড়া সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকায় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ। সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামে মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমিয়ারা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে এক কলেজ শিক্ষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও উপজেলায় সিয়াম নামের এক তরুণ এবং দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুক্তাগাছায় এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) নামের এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

নিহত সিয়াম গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার মধ্য লামকাইন গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে। তিনি বাড়ির আঙিনায় ধানের কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।

নিহত শিক্ষক খালেকুল আজাদ মুক্তাগাছার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি গ্রামে একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকি করার সময় বৃষ্টির মুখে একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নিলে বজ্রপাতের শিকার হন। মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সায়েম তানভীর জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

নীলফামারী

নীলফামারীর ডিমলায় সন্ধ্যায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সেরিনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হন। উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, সন্ধ্যায় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে নিজ বাড়ির পাশে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলম। আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বাড়ির ছাদে বসে থাকার সময় বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নাহিদ (২৩) গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার আগে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে দুই ভাই বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদে বসে ছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ছাদের পাশের একটি নারকেল গাছে আগুন ধরে যায় এবং তারা দুজন অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মরিচক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি ওই গ্রামের আফাল উদ্দিনের ছেলে।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানান, মা ও ছেলে মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে রাব্বি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত মাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন