© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন মঙ্গলবার

শেয়ার করুন:
দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪০ পিএম | ০৮ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থাপিত ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ বা ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন)
রোববার (৮ জুন) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনটি চালু হলে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক গবেষণা, দুর্যোগ পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নীল অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এ প্রকল্পের সমন্বয়ক ও ডাটা সেন্টারের পরিচালক জানান, কেন্দ্রটি এক্স-ব্যান্ড ও এল-ব্যান্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের একাধিক মহাসাগর ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি তথ্য গ্রহণ করতেসক্ষম হবে।

এর ফলে গবেষকরা দ্রুত ও উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন।


তিনি বলেন, বর্তমানে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতার কারণে সমুদ্রসংক্রান্ত তথ্য পেতে বিলম্ব এবং সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। নতুন এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হলে দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা রিয়েল-টাইম ডাটা হ্যান্ডলিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডাটা বিশ্লেষণে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বঙ্গোপসাগরে মাছের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ, ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা, সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ জরিপ, অফশোর গ্যাসক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় এই কেন্দ্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ। চীন প্রযুক্তিগত সহায়তা, যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশি গবেষক ও প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়ে আয়োজকেরা বলেন, কেন্দ্রটি কেবল ডাউনলিংক গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে কাজ করবে এবং এখানে কোনো আপলিংক সুবিধা নেই। ফলে সামরিক বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

পাশাপাশি সব কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আওতায় পরিচালিত হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে বয়া স্থাপন, গবেষকদের জন্য ওপেন-অ্যাকসেস ডাটা পোর্টাল চালু, এআইভিত্তিক পূর্বাভাস মডেল তৈরি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহাসাগর পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ দেশের সমুদ্র গবেষণা, মৎস্য খাত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নীল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন