© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বার্সেলোনার শিরোপা বাতিল করতে উয়েফার কাছে আইনি নথি জমা দিয়েছে রিয়াল

শেয়ার করুন:
বার্সেলোনার শিরোপা বাতিল করতে উয়েফার কাছে আইনি নথি জমা দিয়েছে রিয়াল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১৪ এএম | ০৯ জুন, ২০২৬
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বার্সেলোনার ঐতিহাসিক শিরোপাগুলো বাতিল করার চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পুনর্নির্বাচনে এনরিকে রিকুয়েলমের বিপক্ষে বড় জয় পেয়ে প্রেসিডেন্টের পদে আরও জাঁকিয়ে বসা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ইতোমধ্যেই উয়েফার সদর দপ্তরে একটি বিস্তৃত আইনি নথি জমা দিয়েছেন।

৬৫-৩৫ ভোটের ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর পেরেজ সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে উয়েফার কাছে একটি বিস্ফোরক আইনি ডসিয়ার পাঠিয়েছে। মাদ্রিদের বিশ্বাস, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কেবল উয়েফাই এমন একটি 'দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি' দিতে পারে।

আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বার্সেলোনাকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে যে এবার রিয়াল মাদ্রিদ আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। তাদের লক্ষ্য, বার্সেলোনার অতীতের শিরোপাগুলো পর্যন্ত ইতিহাসের খাতা থেকে মুছে ফেলা।

এই পদক্ষেপ স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সম্পর্কের সম্পূর্ণ ভাঙনের ইঙ্গিত বহন করছে। পেরেজ আগেও প্রকাশ্যে বলেছিলেন, দুই ক্লাবের পারস্পরিক সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।


এএসের তথ্য অনুযায়ী, নিয়নের উয়েফা সদর দপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনটি প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার। এতে রিয়াল মাদ্রিদের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০ বছর ধরে চলা এমন এক 'প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির' প্রমাণ রয়েছে যা লা লিগার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল।

নথিতে মৌসুমভিত্তিক বিশ্লেষণও রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের দাবি, রেফারিদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের কাছ থেকে বহু পয়েন্ট 'ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে'। পেরেজ অতীতে এমনকি নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, 'শুধু এ মৌসুমেই আমাদের কাছ থেকে ১৬ থেকে ১৮ পয়েন্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে।'

এই তথ্য-প্রমাণ উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের কাছে উপস্থাপন করে রিয়াল মাদ্রিদ বোঝাতে চায় যে, অভিযোগের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে শুধু জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট হবে না।

সেফেরিন আগেই নেগ্রেইরা মামলাকে ফুটবলে তার দেখা সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। স্প্যানিশ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া চলার কারণে উয়েফা নিজস্ব তদন্ত স্থগিত রেখেছিল। তবে রিয়ালের নতুন ডসিয়ার জমা দেওয়ার ফলে বিষয়টি আবারও উয়েফার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

সম্প্রতি পেরেজ, সেফেরিন এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে হওয়া বৈঠকগুলোও এখন এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও উয়েফা এখনো স্পষ্ট করেনি যে অতীতের ঘরোয়া শিরোপা বাতিল করার মতো আইনি ক্ষমতা তাদের আছে কি না, তবুও সংস্থাটি বিষয়টির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তারা কখনোই বার্সেলোনাকে ঘিরে খোলা তদন্ত ফাইল পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

এদিকে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের দিক থেকেও বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ক্লাবটি নতুন কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আরও লড়াকু অবস্থানে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে।

কোচ পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্লাবটি ইতোমধ্যেই লিভারপুল থেকে ইব্রাহিমা কোনাতে ও ইন্টার মিলান থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোর চুক্তি সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে নিকো পাজকেও প্রথম দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আক্রমণাত্মক দলবদল নীতি এবং আইনি লড়াই এই দুই পথেই এগোচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন মেয়াদে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ স্প্যানিশ ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্য স্থায়ীভাবে বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন