সংগীতশিল্পী ইশাই লেভির মৃত্যুতে নেতানিয়াহুর শোক প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৯ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
ইসরায়েলের মিজরাহী সংগীতের অন্যতম সেরা কণ্ঠশিল্পী ইশাই লেভি আর নেই। গত ৬ জুন দিবাগত রাতে মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে তার ৬৩ বছর বয়স হয়েছিল। মৃত্যুর সময় স্ত্রী, চার সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের রেখে গেছেন তিনি। এ খবরে ইন্ডাস্ট্রির সহশিল্পী, ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতনরা শোক প্রকাশ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়লের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ জুন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন গায়ক ইশাই লেভি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় ওই রাতেই মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এখনো মৃত্যুর সঠিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইশাই লেভির মৃত্যুতে উত্তর আফ্রিকান বা মধ্যপ্রাচ্য বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত মিজরাহী সংগীতে অবদানের জন্য সহশিল্পী এবং ইসরায়েলি নেতারা স্মরণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ইশাই লেভি ছিলেন ইসরায়েলি সংগীতের এমন একটি বিশেষ কণ্ঠ―যেখানে আত্মা, আনন্দ, বেদনা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা জড়িয়ে ছিল। তার গান লাখো লাখো ইসরায়েলিদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ড আইজ্যাক হারজগ শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ইশাই লেভি ইসরায়েলি সংগীতের প্রিয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ কণ্ঠস্বরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তার অনন্য কণ্ঠ ও প্রিয় গানগুলো কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি সমাজের সঙ্গী ছিল এবং আমাদের জীবনের সুরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। তিনি সুরের মাধ্যমে বহু হৃদয় স্পর্শ করেছিলেন, বিভিন্ন শ্রোতা ও প্রজন্মকে একত্রিত করেছিলেন এবং লাখো লাখো ইসরায়েলিকে আবেগ, সান্ত্বনা ও আনন্দঘন মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছেন।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর লিখেছেন, ইশাই লেভি ছিলেন ইসরায়েলি মিজরাহী সংগীতের অগ্রগামীদের একজন এবং ইসরায়েলি সংগীতের অন্যতম বৃহৎ ও আবেগঘন কণ্ঠস্বর।
প্রসঙ্গত, ১৯৮০-এর দশকে খ্যাতি অর্জন করেন ইশাই লেভি। তার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ডান্স’, ‘রোমান্টিক ডান্স’ ও ‘মাই ওয়ান’। ২০টিরও বেশি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি।
১৯৬৩ সালে রশ হা’আইন নামক স্থানে ইয়েমেন থেকে আসা এক অভিবাসী পরিবারে জন্ম ইশাই লেভির। যৌবনে বিভিন্ন ক্লাব বা প্রাচ্য সংগীতের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতেন। সেনাবাহিনীতেও কাজ করেছেন। এরপর ১৯৮৪ সালে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ১৯৮৬ সালের ‘বিহোল্ড, ডেইজ আর কামিং’ অ্যালবামের মাধ্যমে বড় সাফল্য পান এ গায়ক।
ব্যক্তিজীবনে মাদকাসক্তি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন ইশাই লেভি। মাদকের টাকা সংগ্রহ করার জন্য প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরির অপরাধে কারাভোগও করেছেন। এর কয়েক বছর পর স্ত্রী মাদকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজ বাড়িতে আগুন দেয়ার অপরাধে ফের কারাগারে গিয়েছিলেন। নানা সমস্যা কাটিয়ে ২০০৮ সালে ‘রোমান্টিক ডান্স’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতে ফের প্রত্যাবর্তন করেন।
কেএন/এসএন