রাজ্যসভা ছাড়ছেন কোয়েল মল্লিক?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২২ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, তিনি রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন।
এমন গুঞ্জনের মধ্যেই দিল্লিতে তার যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য যে প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল অন্যতম চমক। রাজ্য পুলিশের সাবেক ডিজি রাজীব কুমার, সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা পান তিনি।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে আগে কখনো আগ্রহ প্রকাশ করেননি কোয়েল। তাই তাকে রাজ্যসভার জন্য মনোনয়ন দেওয়া এবং পরে সেই দায়িত্ব গ্রহণের খবর অনেককেই বিস্মিত করেছিল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ মহলের কেউ কেউ তখন মন্তব্য করেছিলেন, এই প্রস্তাব গ্রহণের পেছনে অন্যদেরও ভূমিকা থাকতে পারে। বর্তমানে তার সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জন উঠতেই সেই আলোচনাগুলো আবার সামনে এসেছে।
শপথগ্রহণের দিনে কোয়েল, সঙ্গে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।

এপ্রিল মাসে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কোয়েল বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা- এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাঞ্জাবি পরিবারে বিয়ে হওয়ায় কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে ভবানীপুরের পাঞ্জাবি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল নিয়েছিল তৎকালীন নেতৃত্ব।
তবে পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই হিসাব খুব একটা কার্যকর হয়নি বলেই অনেকে মনে করছেন। অন্যদিকে দলের অন্দরে আরেকটি আলোচনা রয়েছে। কোয়েলের স্বামী প্রযোজনার পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। সেই ব্যাবসায়িক স্বার্থের কারণেই তিনি কোয়েলকে রাজনৈতিক প্রস্তাব ফিরিয়ে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে কোয়েলের ঘনিষ্ঠ এক অভিনেতা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তার মতে, কোয়েল কখনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেননি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো পদ গ্রহণ করার মানুষও নন। রাজ্যসভায় মনোনীত হওয়ার পর কোয়েলের বাবা অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকও মেয়ের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছিলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ভাঙন এবং বিভিন্ন নেতার অবস্থান পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কোয়েল মল্লিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। তবে তার ঘনিষ্ঠদের ধারণা, তিনি কোনো বিদ্রোহী রাজনৈতিক শিবিরে যোগ না দিয়ে বরং সম্মানজনকভাবে রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই আগ্রহী।
এসএ/টিএ