আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ অ্যাখ্যা ইংলিশ তারকার
ছবি: সংগৃহীত
১০:০১ পিএম | ১০ জুন, ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর এক দিন। এরই মধ্যে মাঠের ভেতরে ও বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
দলগুলো যখন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ সারছে। তখনই খেলোয়াড়, স্টাফ এবং রেফারিকে পড়তে হচ্ছে আয়োজক দেশের কঠোর ভিসানীতিতে।
সব কিছুকে ছাপিয়ে যখন ফুটবল অঙ্গনে ভিসাসংক্রান্ত সমস্যা শিরোনামে উঠে এসেছে। ক্রমবর্ধমান ঘটনা এসব ঘটনা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় ইয়ান রাইট ‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব শুরু করেছে। সেখানেই বিশ্বকাপ উদ্বোধনী সপ্তাহের আগে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিতর্কে নিয়ে আলোকপাত করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির জোরালো বাস্তবায়ন সামনে এসেছে।
এতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের মানুষ কিভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে, তা নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে এই নীতির কঠোর প্রয়োগ দেখা গেল সোমালি রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কী কারণে তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানান, ইস্তাম্বুল থেকে একটি ফ্লাইটে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর তাকে তল্লাশির সম্মুখীন হতে হয়।
কিন্তু আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে মনোনীত হয়েছিল আরতান। শুধু কঠোর অভিবাসন নীতির বলি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

এর পরই ফিফাও তার নাম বিশ্বকাপ রেফারি থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন সরকার এর কারণ হিসেবে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ৩৯টি দেশের মধ্যে সোমালিয়াও রয়েছে।
ফিফার একজন মুখপাত্র বলেছেন, কে ভিসা পাবে এবং কাকে আয়োজক দেশে প্রবেশ করবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সেই দেশের সরকারের।
আরতানের নিষেধাজ্ঞার খবরটি এমন সময় এসেছে যেখানে ইরান ফুটবল দলও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত টুর্নামেন্টের জন্য আগত নির্দিষ্ট কিছু দলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, বিবিসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন স্কটল্যান্ড সমর্থকের ভ্রমণ অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে হোটেল ও ফ্লাইট বাবদ খরচকৃত অর্থ ক্ষতি হল।
এই ক্রমবর্ধমান ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি ও ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইয়ান রাইট এই টুর্নামেন্টকে ‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের এক সপ্তাহ আগেই দেশটির সমর্থদের বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হয়েছে।
তবে ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮% টিকিট সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। যাতে ফেডারেশনগুলো তাদের সমর্থকদের কাছে সেগুলো বিক্রি করতে পারে।
ইরান গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হবে। তবে কেনো ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হলো ফিফা কোন কিছুই জানায়নি।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশকে আতিথ্য দেবে। যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত।
এসব বিতর্কে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটিকে কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ল।
টিজে/টিএ