সংসদে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীরিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই করলে ৪০০-৫০০টির বেশি টিকবে না
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০২ এএম | ১১ জুন, ২০২৬
দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স আছে। আমার বলতে দ্বিধা নেই, স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি লাইসেন্স টিকবে না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এসব লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে আমরা একটা গ্রেডিং করব। এটি করতে সক্ষম হলে প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রস্তাবটির মূল বিষয় ছিল- দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান, তাদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা।
তিনি জানিয়েছেন, প্রবাসীদের সহজে অর্থ পাঠাতে পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত প্রবাসী কার্ড, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসায় ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রবাসী সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়ম রুখতে দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যাচাই-বাছাই করে গ্রেডিং করা হবে।
বর্তমান সরকারকে মাত্র পৌনে চার মাসের পুরোনো উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অল্প সময়ে পুরো অবকাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে আমরা বেশ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছি।
নূরুল হক নুর জানান, প্রবাসীদের জন্য একটি ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য ইতিমধ্যে একটি ব্যাংক রয়েছে, যা এতদিন সাধারণ ব্যাংকিংয়ের আওতায় ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটিকে অনুমোদন দিয়েছে। এখন এই প্রবাসী কার্ড ব্যবহার করে দেশে অর্থ পাঠালে পরিবারের সদস্যরা বা প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিরাপদে তুলতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসীদের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পূর্বাচল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের নিজস্ব জায়গায় প্রবাসীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে প্রবাসীদের পরিবার কম খরচে চিকিৎসাসেবা পাবেন। ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন সেবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী ও প্রতিবন্ধী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, মৃতদেহ পরিবহন, দাফন খরচ এবং মৃত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীদের বিমানবন্দরে ভালো ব্যবহারের দাবির প্রেক্ষিতে নুর বলেন, শাহজালালের পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রবাসীরা বিদেশে চাকরিচ্যুত বা নির্যাতনের শিকার হলে ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা দিতে ১০টি দেশের ল’ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। নারী কর্মীদের সুরক্ষায় জেদ্দা, রিয়াদ ও ওমানে তিনটি সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য টোল ফ্রি নম্বর (১৬১৩৫) চালু রয়েছে। নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের বিষয়ে ওঠা একটি পরিসংখ্যানকে ‘সঠিক নয়’ বলেও সংসদে দাবি করেন তিনি।
দূতাবাসগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডায়াসপোরা কমিউনিটির সঙ্গে দূতাবাসের যে সম্পৃক্ততা এবং 'হোয়াইট কলার জব' খুঁজতে রাষ্ট্রদূতদের যে অ্যাপ্রোচ থাকা দরকার, অনেক ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। প্রয়োজনে সংসদে এনে তাদের জবাবদিহিতা বা কথা বলার সুযোগ তৈরির পক্ষে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের কাজ চলছে। জাপানের শ্রমবাজার ধরতে মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে এসব বাজার আরও প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মাঝে মাঝেই বিদ্যুতের মতো আসা-যাওয়া করে। বর্তমানে বাজারটি বন্ধ। সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২১ সালের এমওইউ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে তালিকা পাঠানো হলেও রিক্রুটিং এজেন্সি সিলেকশন করে মালয়েশিয়া সরকার।
দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বলতে দ্বিধা নেই, স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি লাইসেন্স টিকবে না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এসব লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে আমরা একটা গ্রেডিং করব। এটি করতে সক্ষম হলে প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রবাসীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।
এসকে/টিএ