প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা কেপ ভার্দের সঙ্গে রোনালদোর কী সম্পর্ক?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪০ এএম | ১৬ জুন, ২০২৬
সেন্ট্রাল আটলান্টিক সাগরে পশ্চিম আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে খুব বেশি জনবহুল নয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৫২৪,৮৭৭ জন। এতো কম জনসংখ্যার দেশটিই অংশ নিয়েছে এবারের বিশ্বকাপে। সোমবার (১৫ জুন) সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক হলো ছোট্ট এই দ্বীপদেশটির।
কেপ ভার্দে দেশটাকে খুব বেশি মানুষের চেনার কথা নয়। ফুটবল বিশ্বে তেমন নামডাকও নেই আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটির। তবে বিখ্যাত এক ফুটবলারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশটির নাম। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ধমনিতে বইছে কেপ ভার্দের উত্তরাধিকার।রোনালদোর জন্ম পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে হলেও তার পারিবারিক শিকড়ের একটি অংশ জড়িয়ে আছে কেপ ভার্দের সাও ভিনসেন্তে দ্বীপের সঙ্গে।
রোনালদোর বাবা জোসে দিনিস অ্যাভেইরোর দাদি রোজা ইসাবেল দা পিয়েদাদের জন্ম সাও ভিনিসেন্তেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে রোজা নিজের জন্মভূমি কেপ ভার্দে ছেড়ে ভাগ্য অন্বেষণে মাদেইরায় চলে আসেন। সেখানে তিনি প্রথমে এক ইংরেজ দম্পতির বাড়িতে কাজ করেন এবং পরে সান্তো দা সেরার বাসিন্দা জোসে আভেইরোকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রপিতামহ।

তাদের ঘরে জন্ম নেন উমবের্তো আভেইরো, যিনি পরে ফিলোমেনাকে বিয়ে করেন। ফিলোমেনা ছিলেন রোনালদোর দাদি এবং দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন। উমবের্তো ও ফিলোমেনার ছয় সন্তান ছিল। তাদের একজন ছিলেন দিনিস আভেইরো, যিনি পরে মারিয়া দোলোরেসকে বিয়ে করেন। মারিয়া দোলোরেস পর্তুগালের মাশিকো অঞ্চলের বাসিন্দা এবং তিনি রোনালদোর মা।
পর্তুগালের আরেক বিখ্যাত ফুটবলার ন্যানির পরিবারও পর্তুগালে এসেছিল কেপ ভার্দে থেকেই।
গত ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এইচ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি কেপ ভার্দে-স্পেন।এই গ্রুপের বাকি দুই দল উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের পেরে ওঠার কথা নয়। তবে শার্ক নামে পরিচিত দলটি যে মাঠে ছেড়ে কথা বলতে আসেনি তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
বাছাই পর্বে কেপ ভার্দে পেছেনে ফেলেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বেশিবার আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করা ক্যামেরুনকে। গত বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারিয়ে দেয়া ক্যামেরুন এবার কেপ ভার্দের জন্যই বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি।
অথচ শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে কেপ ভার্দে নিজেদের জানান দিতে শুরু করে মাত্র এক যুগ আগে। ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে জায়গা করে নেয় শার্করা। এরপর থেকে ডায়াসপোরা ফুটবলারদের কাজে লাগিয়ে তরতর করে ওপরে উঠছে কেপ ভার্দে।
পশ্চিম আফ্রিকান দেশ হিসেবে কেপ ভার্দে ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের থেকে স্বাধীনতা পায়। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপ থেকে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা শুরু করেছিল তারা। দীর্ঘ দুই দশক পরে অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। কুরাসাও এবং আইসল্যান্ডের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে।
এমআর/টিকে