© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৬ পিএম | ১৭ জুন, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রান্তিক কৃষকরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন এবং কৃষিখাত জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হবে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।


সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তিনি তার প্রশ্নে সরকারের বহুল আলোচিত কর্মসূচি ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বাস্তবায়নের বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর হবে।


তিনি বলেন, কৃষকদের প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষমতায়িত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি উপকরণে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা এবং সহজ শর্তে কৃষিযন্ত্র সরবরাহ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম চলছে এবং এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শস্য, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১,৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন।

দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং সেচ সুবিধা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, স্মার্ট কৃষি, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , ইন্টারনেট অব থিংস এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়াল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, নদ-নদী ব্যবস্থা ও উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে, যা কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পানি সম্পদ খাতে একাধিক বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা কমানোর উদ্যোগ।

তিনি জানান, সম্প্রতি ৩৪,৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, নদী পুনরুজ্জীবন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জিডিপিতে অতিরিক্ত ০.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবছর জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষমেলা আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য গ্রামীণ জলাধার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

টিজে/টিকে 

মন্তব্য করুন