পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম-এর নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৫ পিএম | ১৮ জুন, ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম্ বন্দ। এ সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ড. লরা টম্ বন্দকে বাংলাদেশে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে স্বাগত জানাই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম-এর মধ্যকার দৃঢ় অংশীদারি আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করি।’
ড. টম্ বন্দ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন বাংলাদেশ বহুমাত্রিক অভিবাসন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
একদিকে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে, অন্যদিকে মায়ানমারে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ, যা বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ড. টম্ বন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অভিবাসন পরিস্থিতি অত্যন্ত গতিশীল এবং এতে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আমি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সুশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসন টেকসই উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।’
বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততার অনুপ্রবেশসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে।
আর এসব কারণে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতি ও দুর্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন চিফ অব মিশন নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন মোকাবেলায় সমন্বিত সরকারি ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আইওএম-এর সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
আইওএম-এর চিফ অব মিশন অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা প্রদানে সংস্থাটির অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন জোরদার করা, স্বাস্থ্য ও প্রাক-বহির্গমন সেবা উন্নত করা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা ও পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা প্রদান।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আইওএম রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে অব্যাহত রাখবে এবং কক্সবাজারে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনগোষ্ঠীদেরও সহায়তা করবে।
কানাডার নাগরিক ড. লরা টম্ বন্দ এর আগে সাড়ে ছয় বছর মোজাম্বিকে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
টিজে/টিকে