ক্ষুধার্ত ব্রাজিলের সামনে এবার দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৯ এএম | ১৯ জুন, ২০২৬
নিউইয়র্ক শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের শান্ত, নিরিবিলি মরিসটাউনে পা রাখলে মনে হবে, কোনো ভূস্বর্গে এসে পৌঁছেছি। বিশ্বকাপের প্রতিটি দলের বেসক্যাম্প বেছে নেওয়া হয়েছে এমনই নিরিবিলি ছবির মতো সুন্দর জায়গায়, যেখানে যাবতীয় কোলাহল থেকে দূরে থেকে নিজেদের ভালোভাবে প্রস্তুত রাখা যায়। ব্রাজিল দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প মরিসটাউনে।
মরিসটাউনের আবহাওয়ার সঙ্গে ব্রিটিশ আবহাওয়ার বেশ মিল আছে। কখনো রোদ, কখনো আবার মেঘ-বৃষ্টি। আবহাওয়ার মতোই ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে ব্রাজিল দলকে। সেলেসাওদের খবর এই ভালো তো এই মন্দ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে কিছুটা বিবর্ণ পারফরম্যান্সে ড্রয়ের পর এন্তার সমালোচনা হয়েছে ব্রাজিল দলকে নিয়ে। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড যেভাবে শুরু করতে পেরেছে, শিরোপার দাবিদার ব্রাজিল তা পারেনি।
ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ সেনানী ডানিলো তো স্বীকারই করেছেন, ‘দল হিসেবে ব্রাজিল দলের পরিপক্বতা ফ্রান্স কিংবা আর্জেন্টিনার মতো নয়।’ এরপর অবশ্য তিনি যোগ করেছেন, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা ভালো করতে পারব না। আমাদের ভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে। হয়তো আরও নিচু লাইনে থেকে রক্ষণ সামলাতে হবে, অতিরিক্ত প্রেসিং না করে প্রতিপক্ষকে বলের দখল ও খেলার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ছেড়ে দিতে হবে। এটাই পরিপক্বতা। আর সুযোগ পেলেই আমাদের আছে ভিনি, রাফিনিয়া, রায়ান, এন্ড্রিক- যারা গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।’
ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পাঁচ দিন সময় পেয়েছে ব্রাজিল। এর মধ্যে শিষ্যদের একদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ছুটি দিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সুখবর, শেষ পর্যন্ত গত পরশু দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন নেইমার। অনুশীলন মাঠে তাঁকে একটু ভিন্নভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছে পুরো দল।
আপাতত ওয়ার্মআপে অংশ নিলেও এখনো আলাদা পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ায় রয়েছেন নেইমার। ফিটনেস কোচদের তত্ত্বাবধানে একাই অনুশীলন করেছেন। দৌড়ানোর সময় মাঠে রাখা বিভিন্ন মার্কার ও কন ঘুরে বল ড্রিবল করেছেন। কিছুক্ষণ বল জাগলিংও করেছেন। তবে গোলমুখে কোনো শট নেননি।

পূর্ণ ফিটনেসে ফেরার প্রাথমিক ধাপে থাকা নেইমার কাল দলের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়া গেলেও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে তাঁর থাকার কোনোই সম্ভাবনা নেই। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের মতো ফিলাডেলফিয়াতেও তিনি বেঞ্চে বসে খেলা দেখবেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা ডিফেন্ডার ডানিলো গ্রুপপর্বেই নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে বেশ আশাবাদী। তবে তিনি অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করতে চাননি নেইমারকে নিয়ে।
ডানিলো বলেছেন, ‘আমাদের বাস্তবতা নিয়েই ভাবতে হবে, কল্পনা নিয়ে নয়। আমরা আশা করি, সে ফিট হয়ে ফিরবে এবং দলকে সহায়তা করবে। সেটা ৫ মিনিট হোক কিংবা ১০ মিনিটের জন্য। তার সামর্থ্য নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই।’
নেইমারের ফেরার দিকে ব্রাজিল কতটা তাকিয়ে, সেটি বোঝা গেল ডানিলোর এই কথায়, ‘নেইমার মাঠে থাকলেই প্রতিপক্ষের দুই বা তিনজন খেলোয়াড় তাকে আটকাতে ব্যস্ত থাকবে। আমাদের অন্য একজন খেলোয়াড় ফাঁকা জায়গা পাবে। সে আমাদের অনেক বড় সহায়তা করতে পারে। শুধু মাঠে তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের পুরো পরিকল্পনা এলোমেলো করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’
শুধু নেইমার নন, চোট সমস্যা আরও দুজনের আছে। কদিন ধরে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গ্যাব্রিয়েলের বাঁ ঊরুর অ্যাডাক্টর পেশিতে ক্লান্তি রয়েছে, তাঁকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। পায়ের ফোসকার সমস্যায় ভুগছেন রাফিনিয়া।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ও রক্ষণের দুর্বলতা বেশ ফুটে উঠেছিল। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, পুরো সপ্তাহজুড়ে প্রায় প্রতিটি পজিশনেই বিভিন্ন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করে দেখেছেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের দুই দিন আগে আক্রমণভাগে এন্ড্রিককে পরীক্ষা করেছেন। ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অনুশীলনে কখনো ইগর থিয়াগো, কখনো মাতেউস কুনিয়ার সঙ্গে পালাক্রমে খেলেছেন। মূলত সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অনুশীলনের অন্য সময়গুলোয় লুইজ হেনরিকে ও রায়ানকে, মাঝমাঠে ফাবিনিও ও এদেরসনকে এবং রক্ষণে আলেক্স সান্দ্রোকেও পরীক্ষা করেন।
দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে আসা ক্যারিবীয় দেশ হাইতির শুরুটা ভালো হয়নি, বোস্টনে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেছে ১-০ গোলে। এই বিশ্বকাপে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে (৮৫) থাকা হাইতি নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পড়েছে ‘ক্ষুধার্ত’ ব্রাজিলের সামনে। সেলেসাওদের মাঠে নামতে হচ্ছে ‘কিলিং ইনস্টিংট’ নিয়ে। গ্রুপে মরোক্কোর ওপর থাকতে হলে শুধু জয়, হাইতির বিপক্ষে বেশ বড় ব্যবধানেই জিততে হবে ব্রাজিলকে। তবে এবার যেভাবে বড় দলগুলোকে রুখে দিচ্ছে ছোট দলগুলো, হাইতি কোনো চমক উপহার দিয়ে ফেললে ব্রাজিলিয়ানদের হতাশার শেষ থাকবে না!
এসকে/টিএ