© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘হ্যান্ডবল’ পরও স্পেনের পেনাল্টি কেন বহাল থাকল, কী বলছে ফুটবলের নিয়ম?

শেয়ার করুন:
‘হ্যান্ডবল’ পরও স্পেনের পেনাল্টি কেন বহাল থাকল, কী বলছে ফুটবলের নিয়ম?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৬ এএম | ১৫ জুলাই, ২০২৬
ফুটবলে ‘হ্যান্ডবল’ বা হাতে বল লাগার নিয়মটি সবসময়ই দর্শকদের কাছে বেশ জটিল মনে হয়। বল আর হাতের স্পর্শ হলেই যে তা নিয়মবহির্ভূত হবে, এমন কোনো কথা নেই।

রেফারির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খেলোয়াড়ের হাতের অবস্থান, নড়াচড়া, উদ্দেশ্য এবং ওই মুহূর্তের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হয়। আর ঠিক এই মানদণ্ডগুলোর ওপর ভিত্তি করেই ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পেনাল্টি পায় স্পেন, যদিও ফাউলের আগে বলটি লামিনে ইয়ামালের হাতে লেগেছিল।



ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম গোলটি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, কারণ বক্সের ভেতরে ঘটনাটি ঘটেছিল চোখের পলকে। ফরাসি পেনাল্টি বক্সে বল দখলের লড়াইয়ের সময় বলটি প্রথমে ইয়ামালের হাতে লাগে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই স্প্যানিশ এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে বসেন লুকাস দিনিয়ে। রেফারি ইভান বার্টন ফরাসি ডিফেন্ডারের ট্যাকলটিকে ফাউল হিসেবে ধরে স্পট কিকের বাঁশি বাজান।
পরে ইয়ামালের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়, কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

এই পেনাল্টি বহাল থাকার পেছনে ফুটবলের নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা রয়েছে। নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে, বল হাতে লাগলেই তা হ্যান্ডবল বা ফাউল নয়। হ্যান্ডবল ডাকার জন্য রেফারিকে দেখতে হয় যে, খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে বলের দিকে হাত বাড়িয়েছেন কি না, বা তার হাত এমন কোনো অবস্থানে ছিল কি না যা স্বাভাবিকের চেয়ে তার শরীরকে বড় করে তোলে। ইয়ামালের ক্ষেত্রে তার হাত শরীরের সাথে একেবারে লেগে ছিল। তিনি কোনোভাবেই অতিরিক্ত বাধা তৈরি করেননি বা বাড়তি জায়গা দখল করেননি। বলটাই এসে তার হাতে লেগেছে, তিনি বল আটকানোর কোনো চেষ্টা করেননি।

আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের হাতে বল লাগলেই তা সরাসরি বাতিল হবে, ব্যাপারটি এখন আর তেমন নয়। আগের নিয়মে বলা ছিল, আক্রমণ তৈরির শুরুতে যেকোনো হ্যান্ডবলই ফাউল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই নিয়মে এখন পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে অনিচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল তখনই ফাউল বলে গণ্য হয়, যখন কোনো খেলোয়াড় সরাসরি হাত দিয়ে গোল করেন বা হাতে বল লাগার ঠিক পরপরই গোল করে বসেন।

ইয়ামালের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই ঘটেনি। তিনি হাত দিয়ে গোলও করেননি, কিংবা বেআইনিভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করেও শট নেননি। অনিচ্ছাকৃতভাবে হাতে বল লাগার পরও তিনি খেলায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং ঠিক তখনই দিনিয়ে তাকে ফাউল করেন। স্বাভাবিক অবস্থানে থাকা হাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে বল লাগার পর পেনাল্টি আদায় করা নিয়মের কোনো বরখেলাপ নয়। তাই রেফারিকে খেলা থামানোর কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।

মূলত এখানে দুটি আলাদা সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। প্রথমত, ইয়ামালের হাতে বল লাগার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ বৈধ, কারণ সেখানে ইচ্ছাকৃত কোনো ব্যাপার বা হাতের অস্বাভাবিক অবস্থান ছিল না। দ্বিতীয়ত, বল যখন প্লে-তে ছিল, ঠিক তখনই দিনিয়ে বক্সের ভেতর ফাউলটি করেন। প্রথম ঘটনাটি যেহেতু ফাউল ছিল না, তাই পরের ফাউলটির জন্য পেনাল্টি দিতে কোনো বাধা ছিল না। দৃশ্যত বল হাতে লাগার বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও স্পেনের পক্ষে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ফুটবলের ১২ নম্বর আইন অনুযায়ী একদম নিখুঁত ছিল।

ডালাসে অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনালে ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলেই প্রথম লিড পেয়েছিল স্পেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান ২-০ করেন, যার সুবাদে ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও একটি ফাইনাল খেলার অপেক্ষায় স্প্যানিশরা।

মন্তব্য করুন