© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মেসি বন্দনা আর ফকল্যান্ড ইস্যু এক পাশে রেখে কেবল ফুটবলে ফোকাস কেইনের

শেয়ার করুন:
মেসি বন্দনা আর ফকল্যান্ড ইস্যু এক পাশে রেখে কেবল ফুটবলে ফোকাস কেইনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪২ এএম | ১৫ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর দুই দলের এই লড়াই যেন ফকল্যান্ড যুদ্ধের পুরনো রেষারেষিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

তবে এসব ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু বা অতীত ইতিহাস নিয়ে একদমই ভাবতে রাজি নন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। জুড বেলিংহ্যামের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ফাইনাল খেলার অন্যতম এই ভরসার মতে, দলের মনোযোগ এখন শুধুই মাঠের ফুটবলে।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা স্ট্রাইকার বলেন, ‘এই ম্যাচকে ঘিরে অনেক রকম ইতিহাস আর আলোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। সংবাদমাধ্যম আর সমর্থকরা এসব নিয়ে কথা বলবেই।

কিন্তু আমাদের ফোকাস কেবল ফুটবল ঘিরেই থাকতে হবে।’

আর্জেন্টিনার বর্তমান দল ও কোচ লিওনেল স্কালোনির ট্যাকটিকসেরও দারুণ প্রশংসা করেন কেইন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ট্যাকটিক্যালি দারুণ বুদ্ধিমান একটি দলের বিপক্ষে খেলতে নামছি। তারা খুব ভালো করেই জানে কীভাবে ফাউল আদায় করতে হয়, কখন ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বা ধীর করে দিতে হয়। এটা ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার লড়াই, বিশ্বের অন্যতম সেরা দুটি দলের লড়াই। এর বাইরের সবকিছুই আমাদের কাছে গৌণ।’

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচে দেখা যাবে গোল্ডেন বুট জেতার দ্বৈরথও। আট গোল নিয়ে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি, আর ছয় গোল নিয়ে ঠিক তার পেছনেই আছেন কেইন। তবে এই লড়াইকে মেসির সাথে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ হিসেবে দেখতে নারাজ ইংলিশ অধিনায়ক।



কেইন বলেন, ‘আমাদের ম্যাচটা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, শুধু মেসির বিপক্ষে নয়। আমরা জানি দলের অনেক কিছুই তাকে ঘিরে আবর্তিত হয় এবং বল পায়ে সে কী করতে পারে, তার ওপর সতীর্থদেরও অগাধ আস্থা রয়েছে। আমাদের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, যা পার করতে হবে।’

৩৯ বছর বয়সেও মেসির ফুটবল মস্তিষ্কের প্রশংসা করে কেইন আরও বলেন, ‘সে কত বড় মাপের খেলোয়াড়, তা আমরা সবাই জানি। প্রায় দুই দশক ধরে সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। এটা ভাবতেই অবাক লাগে যে, এত বছর ধরে এলিট লেভেলে খেলার পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে কখনও মাঠে নামেনি। এটি একটি বিশেষ উপলক্ষ হতে যাচ্ছে। অনেকেই বলে এখনকার ফুটবলে প্রচুর দৌড়াতে হয়, কিন্তু মেসি যা করতে পারে তা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। সে অন্য সবার চেয়ে খেলাটা ভালো বোঝে বলেই যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।’

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জেতার পরও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। তবে কোচের এমন বার্তার পক্ষেই সাফাই গাইলেন কেইন। তার মতে, কোচের এই সততা দলের উন্নতিতেই সাহায্য করবে।

কেইন বলেন, ‘আমাদের দলের মধ্যে দারুণ একতা রয়েছে। আমরা একে অপরের কাজের দায়ভার নিই, তার মানে এই নয় যে আমরা সবসময় সব বিষয়ে একমত হব। টুখেল মনের কথা চেপে রাখেন না, তিনি যেমন দেখেন তেমনই বলেন। আর এটাই তাকে একজন দারুণ কোচে পরিণত করেছে। হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে সমালোচনা মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু পরে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় এটা আমাদের উন্নতির জন্যই করা। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়, এ ধরনের বার্তা হজম করার জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত।’

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন