© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২০২৭ সালের মধ্যে ১০ উড়োজাহাজ লিজ নিচ্ছে বিমান

শেয়ার করুন:
২০২৭ সালের মধ্যে ১০ উড়োজাহাজ লিজ নিচ্ছে বিমান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:০৩ পিএম | ১৯ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে সেবা চালুর লক্ষ্যে বহর সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের আগে হাতে না পাওয়ায় অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজের বহর বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে। এতে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে চারটি উড়োজাহাজ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

তিনি বলেন, পুরো লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে।

২০৩১ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী কৌশল

সরকারের ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে এই লিজ কর্মসূচি আলাদা। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওই চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের কাছ থেকে স্বল্প সময়ে নতুন উড়োজাহাজ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সেই সময় পর্যন্ত সক্ষমতা ধরে রাখতে লিজই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।

তিনটি ড্রিমলাইনার লিজের প্রক্রিয়া শুরু

এরই মধ্যে ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান। গত ১৫ জুলাই এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি উড়োজাহাজ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরবরাহ সম্ভব হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৯ আগস্ট।

ড্রাই লিজ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজের ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিমার দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসই বহন করবে।

ভবিষ্যতে এয়ারবাসও যুক্ত হতে পারে

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ।

সরকার ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস-এর উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনা করছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় ধরনের উড়োজাহাজই প্রয়োজন।

এদিকে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোও বহর সম্প্রসারণে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০২৭ সাল থেকে লিজের মাধ্যমে ২১টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাণিজ্যিক সক্ষমতা বজায় রাখতে বিমানের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। বহরে অতিরিক্ত ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও বড় সুবিধা মিলবে।

এসএন 

মন্তব্য করুন