এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও চেনার ৩ উপায়
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৪ পিএম | ২১ জুলাই, ২০২৬
আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ফিড কি ইদানীং এআই ভিডিওতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে? হয়তো আপনি নিজেও অজান্তে অনেকবার এই কৃত্রিম ভিডিওর ফাঁদে পা দিয়েছেন। গত কয়েক মাসে এআই ভিডিও জেনারেটরগুলো এতটাই উন্নত হয়েছে যে, ক্যামেরার লেন্স আর বাস্তবের সত্যতার মধ্যকার পার্থক্যটি এখন প্রায় মুছে যাওয়ার পথে।
হোটেল রুমে কিংবা ট্রেনের কামরায় অচেনা দুই মানুষের প্রেমের ভাইরাল ভিডিও দেখে হয়তো আপনিও আবেগপ্রবণ হয়েছেন, যা পরবর্তীতে স্রেফ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক হানি ফারিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ভিড়েও কিছু ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদসংকেত দেখে আপনি সহজেই এআই ভিডিও চিনে নিতে পারেন। দেশের একটি গণমাধ্যমর পাঠকদের জন্য নিচে প্রধান তিনটি উপায় তুলে ধরা হলো:
১. ভিডিওর দৈর্ঘ্য ও দৃশ্য পরিবর্তন
এআই ভিডিও চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর দৈর্ঘ্য লক্ষ্য করা। বর্তমানে অধিকাংশ এআই ভিডিও অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হয়। সাধারণত ৬, ৮ বা ১০ সেকেন্ডের মতো। এর কারণ হলো, দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ভিডিও যত লম্বা হয়, এআই-এর ভুল করার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ছোট ক্লিপ জোড়া দিয়ে বড় ভিডিও বানানো হয়; সেক্ষেত্রে খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রতি ৮ সেকেন্ড বা তার কাছাকাছি সময়ে একটি করে ‘কাট’ বা দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে।
২. ছবির মান ও রেজোলিউশন
ভিডিওটি কি দেখতে অনেক পুরোনো ফোনের ক্যামেরায় তোলা বা সিসিটিভি ফুটেজের মতো ঝাপসা মনে হচ্ছে? তবে সাবধান হোন। এআই-এর তৈরি ভিডিওর সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো আড়াল করতে অনেক সময় ইচ্ছা করেই ভিডিওর রেজোলিউশন কমিয়ে দেওয়া হয় এবং সেটিকে ঝাপসা বা পিক্সেলযুক্ত করে প্রকাশ করা হয়। কম রেজোলিউশনের কারণে ভিডিওর খুঁতগুলো মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, যা প্রতারকদের জন্য মানুষকে ঠকানো সহজ করে তোলে।
৩. সূক্ষ্ম ভিজ্যুয়াল অসঙ্গতি
আধুনিক এআই মডেলগুলো এখন আর ‘ছয়টি আঙুল’ বা ‘অস্পষ্ট লেখার’ মতো বড় ভুল করে না, বরং তাদের ভুলগুলো এখন অনেক সূক্ষ্ম। ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখলে কিছু অদ্ভুত বিষয় নজরে আসতে পারে। যেমন: মানুষের ত্বক অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ দেখায়, চুল বা পোশাকের প্যাটার্ন বারবার পরিবর্তিত হয়, অথবা ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনো ছোট বস্তু অবাস্তবভাবে নড়াচড়া করে। এই ধরনের সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলোই এআই ভিডিওর অন্যতম বড় সিগন্যাল।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই প্রযুক্তি এতটাই নিখুঁত হবে যে এই দৃশ্যমান লক্ষণগুলো আর থাকবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে কোনো ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শুধুমাত্র চোখের ওপর ভরসা না করে সেটির উৎস এবং প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়বে। কোনো তথ্য বা ভিডিও বিশ্বাস করার আগে তা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র দ্বারা যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরআই/টিএ