মুখ ঢেকে কথা বলেও কেন লাল কার্ড দেখেননি কুকুরেয়া?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২১ পিএম | ২১ জুলাই, ২০২৬
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। তবে একই ম্যাচে আরেকটি লাল কার্ডের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত শাস্তি এড়াতে সক্ষম হন স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন এনজো। মাত্র ১০ মিনিট পর স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর কড়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে।
এনজোর বহিষ্কারের কিছুক্ষণ পরই নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, লিওনেল মেসি রেফারির দিকে ইশারা করে স্পেনের লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দাবি ছিল, কুকুরেয়া কথা বলার সময় মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, যা ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে চালু হওয়া নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য ছিল মাঠে বিতর্কিত মন্তব্য বা গোপন বাক্যবিনিময় নিরুৎসাহিত করা। গত মৌসুমে বেনফিকার মিডফিল্ডার জানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠার সময় প্রেস্তিয়ানি মুখ ঢেকে কথা বলেছিলেন। ফলে তদন্তকারীরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি কী বলা হয়েছিল। এরপরই ফিফা কঠোর অবস্থান নেয়।
চলতি বিশ্বকাপেই এই নিয়ম ভঙ্গের দায়ে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন এবং ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়েকে লাল কার্ড দেখতে হয়েছে। তাই মেসির অভিযোগের পর অনেকেই ভেবেছিলেন কুকুরেয়ার ভাগ্যেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।
তবে নিয়মটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ফিফা মুখ ঢেকে কথা বলাকে সব পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ করেনি। শাস্তি তখনই প্রযোজ্য, যখন কোনো উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, সংঘাত বা আগ্রাসী পরিস্থিতির মধ্যে খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে কথা বলেন।
ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কুকুরেয়া মেসির সঙ্গে কথা বলার সময় ক্ষণিকের জন্য মুখে হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কোনো উত্তপ্ত তর্ক, বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ বা সংঘর্ষের পরিস্থিতি ছিল না। ফলে ম্যাচ কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেননি।
এ ধরনের ঘটনা টুর্নামেন্টে এটিই প্রথম নয়। এর আগে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহামকে ঘানার জর্ডান আয়ুর সঙ্গে আলাপের সময় মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেটিও সাধারণ কথোপকথন হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
ফলে ফাইনালের ঘটনাতেও কুকুরেয়াকে ‘বেনিফিট অব দ্য ডাউট’ বা সন্দেহের সুবিধা দেওয়া হয়। মেসির আপত্তির পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
টিকে/