সালমান শাহ’র মৃত্যু : পিবিআইয়ের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারাজি
প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। আর এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ওপর নারাজি পিজিশন দেবেন সালমান শাহ’র পরিবার। তারা নারাজি পিটিশন দিতে আদালতে সময়ের আবেদন করেছে।
সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নারাজি পিটিশনের জন্য বাদী পক্ষের হয়ে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ।
আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জানান, আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে মামলার বাদী সালমান শাহ’র মা লন্ডনে অবস্থান করছেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। তাই নারাজি দেয়ার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান প্রতিবেদন ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ৬শ’ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই।
পিবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকান্ডের শিকার হননি। তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা ও তার দাম্পত্য সম্পর্কের বেড়াজালে পুঞ্জীভূত অভিমান এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।
কিন্তু পিবিআইয়ের দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত পাঁচটি কারণ নাকচ করে দিয়েছেন সালমান শাহ’র মা ও মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবীরা। তারা বলছেন, পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পিবিআই প্রতিবেদন দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করেন তার বাবা। ওই সময় অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যা মামলার অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
টাইমস/এসএন