© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারত নিজেরাই ‘অনুধাবন’ করেছে, ‘স্ট্রংলি’ বলার কী আছে: শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
ভারত নিজেরাই ‘অনুধাবন’ করেছে, ‘স্ট্রংলি’ বলার কী আছে: শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২৯ এএম | ০২ আগস্ট, ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ সরকার জোরালো ভূমিকা নেবে কিনা, এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ভারত নিজেরাই অনুধাবন করেছে, জোরালোভাবে বলা কী আছে? ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তখন থেকে তিনি সেখানেই আছেন।


মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদন্ডের রায় মাথায় নিয়ে শেখ হাসিনা একাধিকবার ভারত ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কথা বলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে।

সবশেষ রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমপর্ণ করার কথা বলেছেন। ভারতে থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ জোরালো ভুমিকা নেবে কি না এ বিষয়ে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে তিনি বলেন, “ভারত যেখানে নিজেরাই অনুধাবন করেছে সেখানে ‘স্ট্রংলি’ বলার কি আছে। প্রতিনিয়ত একটা অপরাধ হয়ে যাচ্ছে।

“এ সংক্রান্ত আইনি যে পদক্ষেপ আছে সে বিষয়ে যাচাইবাছাই করে যথাসময়ে নেওয়া হবে। এখানে নতুন করে জোর দেওয়া তাগিদ দেওয়ার কিছু নাই। এটা ‘ওপেন সিক্রেট’।”

বৃহস্পতিবার ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি লোকসভা ও রাজ্যসভায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেখছে ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। তবে একই সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগও উঠে এসেছে তাদের প্রতিবেদনে।

২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং কৌশল নির্ধারণে এই বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করল সংসদীয় কমিটি।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের তরফে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে ভারত সরকারকে। তবে তারা সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে সে বিষয়টিও এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ‘মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার’ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে বলেছে, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনুরোধটি ‘পর্যালোচনা’ করছে।

একজন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামী কী করতে পারেন, কী করতে পারেন না তা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) কোথায় আছেন, সে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কী? ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে আমাদের কমন 'ল' সিস্টেম আছে। আমাদের পেনাল কোড ওনাদের পেনাল কোড, আমাদের সিআরপিসি ওনাদের সিআরপিসি প্রায় কাছাকাছি। সেখানে কি করতে হবে ওনারা ভাল জানেন। আমাদের জায়গা থেকে আমাদের যা করণীয় আমরা করছি।”

রাজধানীর একটি হোটেল ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ' কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ এবং সচিব কমিটির সভা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইনটি উত্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।”

সাইবার আইন বিষয়ে সরকার তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সরকার এমন একটি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে একদিকে সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা অন্যান্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানহানি, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাবে।”

সরকার মানুষের কণ্ঠরোধ করতে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে চায় না; একই সঙ্গে নাগরিকদের অধিকার ও সুনাম রক্ষায় কার্যকর আইনি কাঠামো নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, বলেন তিনি।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন