ডিবি পরিচয়ে ফোন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের টার্গেট করছে প্রতারক চক্র
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫৯ পিএম | ০২ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের টার্গেট করে নতুন কৌশলে প্রতারণা করছে একটি চক্র। নিজেদের ডিবি বা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীকে আটক করার ভয় দেখিয়ে ইতোমধ্যে দুই অভিভাবকের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই কৌশলে আরও একজন অভিভাবকের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলেও তিনি তথ্য যাচাই করায় প্রতারণার শিকার হননি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা অভিভাবকদের ফোন করছেন। কখনও মাদকসহ আটক, আবার কখনও আবাসিক হোটেল থেকে আটক করার কথা বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কা তৈরি করতে ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দও শোনানো হচ্ছে। পরে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এ সুযোগে তার বাবাকে ফোন করে প্রতারকেরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দাবি করে, মাদকসহ তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
পরদিন ৩০ জুলাই একই কৌশলে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফোন করে শিক্ষার্থীকে আটকের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
এদিকে আরেক শিক্ষার্থীর মাকেও একইভাবে ফোন করে জানানো হয়, তার মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে এবং ফোনে কান্নার শব্দ শোনানোর মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করায় প্রতারণা থেকে রক্ষা পান।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবার ও পরিচিতজনকে এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরীক্ষার সময়সূচি পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার একটি নতুন কৌশল। কোনো ফোনকল পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই পরিচয় ও তথ্য যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো ফোনকল পেলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।
এসএন