ঢাকায় জামাইয়ের হাতে স্ত্রী-শাশুড়ি খুন
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৯ পিএম | ০২ আগস্ট, ২০২৬
রাজধানীতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান আল-আমিন মসজিদের পাশের পাঁচতলা ভবনের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বটগাঁও এলাকায়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে শিপনের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়।
নিহত ফারজানার বাবা মো. ফারুক হোসেন জানান, কিছুদিন ধরেই মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী ও মেয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিপনও যান, তবে বিয়ের দিন সকালে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে এবং শিপন না খেয়েই ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার রাতে স্ত্রী ও মেয়ে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরলে রোববার সকালে পুরোনো বিরোধের জের ধরে ফের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
তিনি আরও জানান, হামলার পর শিপন তাদের এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং শিপনকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার আল-আমিন মসজিদের ৫২ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় জামাই শিপনের। পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়ি এবং স্ত্রীকে আঘাত করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে রাত্রি মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
এসএন