৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিস নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ডিজি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৬ পিএম | ০২ আগস্ট, ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ফায়ার সার্ভিস নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যদের জন্য আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিজি বলেন, ৭ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে একই সময়ে অসংখ্য স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর এসব স্টেশন থেকে দ্রুত জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হবে। এ পরিকল্পনা যাচাই করতে একটি ড্রাই এক্সারসাইজও সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছোট আকারের উদ্ধার সরঞ্জাম ও ফায়ার ফাইটার পরিবহনের ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যম নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে আগাম পরিকল্পনা করলে সরকারের কাছে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের আগে অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ভবনের ক্ষয়ক্ষতির ধরন অনুযায়ী উদ্ধারকাজের কৌশল ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই রিপোর্টিংয়ের সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, লিফট ব্যবহার না করা এবং জরুরি ওষুধ, টর্চলাইট ও বাঁশিসহ একটি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত প্রচার করা প্রয়োজন।
ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল ও টানেলের মতো আধুনিক অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইতোমধ্যে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সহযোগিতায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস একটি ব্যয়বহুল জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা। প্রতিদিন অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ায় যানবাহন ও সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল ব্যয় হয়। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ডিজি জানান, ফায়ার লাইসেন্স পুরোপুরি অনলাইনে আনা হয়েছে এবং প্রতিটি লাইসেন্সে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে জাল লাইসেন্স ব্যবহার প্রতিরোধ করা যায়।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্যোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সংবাদমাধ্যমকে অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এমআই/টিকে