© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে হাতাহাতি

শেয়ার করুন:
ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে হাতাহাতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২৫ পিএম | ০২ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে বহিরাগত দুই তরুণের আপত্তিকর আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হলটিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হল প্রশাসনের শিক্ষকেরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উল্লেখ্য যে, শনিবার রাতে ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই বহিরাগত তরুণের সমকামী আচরণের অভিযোগ ওঠে। কক্ষের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী তাদের ভিডিও ধারণ করেন বলে জানা গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এরপর রাতেই সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের ভেতরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং অভিযুক্ত এজিএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ অবস্থায় হল প্রশাসন হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইব্রাহীম খলিলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে।

ইব্রাহীম খলিল ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমর্থনে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস নির্বাচিত হন। এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় আসা দুই তরুণকে তিনি মানবিক কারণে কক্ষে থাকতে দিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কক্ষে ছিলেন না এবং তাদের আচরণ সম্পর্কে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না বলে দাবি করেন।

হাতাহাতি সম্পর্কে শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী হাদি আল ইসলাম বলেন, শিবিরের হামলায় আজ রক্তাক্ত শহীদুল্লাহ হল। সমকামী শিকদারকে বাচাঁতে শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী ওয়ালী হাসান বলেন, হল প্রশাসন প্রভোস্ট অফিসে ইবরাহীম, তার রুমমেট ও হল সংসদের নেতাদের ডাকেন তদন্ত কমিটির মিটিংয়ে। ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হল সংসদের নেতাদের ওপর হামলা চালায় প্রভোস্ট অফিসের ভেতরে, তদন্ত কমিটি, প্রভোস্ট ও অন্যান্য শিক্ষকদের সামনে। কী পরিমাণ ডেস্পারেট হলে শিক্ষকদের সামনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেও এরা পিছ পা হয় না! আমাদের শিক্ষকদের ভূমিকাও দেখার মতো। তদন্ত হলে ছাত্রদলের কি সমস্যা?

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, হল প্রশাসনের তদন্ত মিটিংয়ে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, এটা এখন প্রশমিত এবং হাতাহাতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। আমরা চেষ্টা করছি সুস্থ তদন্ত করতে। আমরা কোনো পক্ষ বা বিপক্ষ দলের না। আমাদের প্রক্টর টিমের সদস্য এখনো শহীদুল্লাহ হলেই আছে। আমরা প্রত্যক্ষদর্শী না, ঘটনা ঘটার পর প্রভোস্ট স্যারের কল পেয়ে গিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো কনক্লুশনে যেতে পারছি না, হামলায় কে দোষী বা কে আগে এসেছিল।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন