‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৪ এএম | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেরণা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক অনুষ্ঠানে ওই আত্মপ্রকাশ ঘটে।
সংগঠনের উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান প্রমুখ।
নবগঠিত সংগঠনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সম্পাদকের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ উল্লাহ মধু ও মুখোপাধ্যায় নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন (সাম্য শাহ)।
নুরুল হক নূর বলেন, এনসিপি দেশের রাজনীতিতে এখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডক্টর ইউনুস যেসব ছাত্র নেতাকে হাইলাইটস করেছিল, তারা বিদেশি শক্তির গুটি হিসেবে এদেশে কাজ করছে। সম্প্রতি সময়ে এইসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ছাত্ররা রাজপথ গিয়েছিল, এখানেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। দেশের এ সংকটে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পত্রিকার খবর অনুযায়ী বাংলাদেশে চার কোটির উপরে শিক্ষিত বেকার আছে, তাহলে সেই দেশে কল্যাণকর রাজনীতি কীভাবে করবেন। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছে তাদের জন্য আমরা কি করতে পেরেছি। দেশে গ্যাস, বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় সংকট তাহলে আপনি রাজনীতি করবেন কোথায়। বিএনপি বলেছিল এক কোটি বেকারকে চাকরি দেবে- কিন্তু আমরা মনে করি; তারা দিতে পারবে না। বিদেশিরা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে না। তাহলে কর্মসংস্থান হবে কীভাবে? বিএনপি যে অঙ্গীকার (নির্বাচনি ইশতেহার) করেছিল, অলরেডি তা ভঙ্গ করা শুরু করেছে। প্রধান বিচারপতি যদি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে তাহলে সেই দেশের বিচার বিভাগ কিভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে?
তিনি বলেন, একাত্তরের আকাঙ্ক্ষা আমরা এখনো পূরণ করতে পারি নাই। ৯০ নির্বাচনের পরেও এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় নাই। বিদেশি একটা শক্তি এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. ইউনুস সরকারকে নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু তিনি সে আশা পূরণ করতে পারেন নাই। জুলাই অভ্যুত্থানের তৃতীয় শ্রেণির কর্মীদের তিনি মাস্টারমাইন্ড এবং উপদেষ্টা বানিয়ে দিয়েছিলেন। বিগত সময়ে এ দেশের ছাত্ররা দেশে আন্দোলন সংগ্রাম করেও কখনোই ক্ষমতায় বসেন নাই। সারা দেশের ছাত্ররা ড. ইউনূস সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, কিন্তু তিনি গুটিকয়েক ছাত্রকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের মানুষের জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে বেহাত করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ফ্যাসিবাদের কয়েকজন দোসর চাকরিচ্যুত করেছেন এবং বিচারের আওতায় এনেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের রাজনীতিতে ভবিষ্যতে সংকট দেখতে পাচ্ছি। এ সংকট কাটাতে দেশের টপ লেভেলে রাজনীতিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।
সাইফুল হক বলেন, যারা এনসিপি গঠন করেছে- তারা রাজনীতিকে টি-টোয়েন্টি খেলা মনে করছেন। তাদের বলব- রাজনীতিতে অনেক লড়াই সংগ্রাম আছে, আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। তারা গালাগালিকে রাজনীতির একটা অংশ বানিয়ে নিয়েছে। এনসিপির এই তরুণ নেতাদের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লোভ জাগিয়ে তুলেছিল। এনসিপি গোটা একটা প্রজন্মকে রাজনীতির নামে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা মনে করছে এলাম-দেখলাম-জয় করলাম, এটা রাজনীতি হতে পারে না। এনসিপি যেটা করছে এটা অপরাজনীতি। এনসিপি কে বলব আপনারা ধৈর্য ধরুন, রাজনীতি একটা লম্বা পথ। বিএনপি অনেক ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছে। বিএনপিকে বলব জামাত এবং এনসিপির জন্য রাজনীতির মাঠ খালি করে দিয়ে টেকসই রাজনীতি করা সম্ভব নয়। একটা গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে এ দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিএনপির এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
এমআর/টিএ