বরিশালে ‘আর করব না’ বলার পরও প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে জামায়াত সমর্থক
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৫ পিএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
বরিশালে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে এক জামায়াত সমর্থককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক সুজন আকন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। তিন বছর আগে দেশে ফিরে তিনি চানপুর মোল্লা স্টেশন এলাকায় বিয়ে করেন। তাদের একটি সন্তান জন্মের পাঁচ দিন পর মারা যায়। প্রায় ছয় মাস আগে ওই প্রবাসী পুনরায় বিদেশ চলে যান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার রাতে বাড়ির একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে কক্ষে ঢুকে তারা ওই নারী ও সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মিলে দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমঝোতা না হওয়ায় পরদিন (৪ আগস্ট) তাদের থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ওই গৃহবধূর জা বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে তাদের হাতেনাতে শোবার ঘর থেকে আটক করেছি। এর আগেও একবার ধরা পড়েছিল। তখন স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছিল, আর এমন কাজ করব না। তবে কথা রাখেনি। আমরা বিচার চাই।
গৃহবধূর ভাসুর বলেন, ছেলেটি বিবাহিত। তার দুটি সন্তান রয়েছে। তবুও সে এভাবে আমাদের মানসম্মান নষ্ট করেছে।
গৃহবধূর ভাসুরের ছেলে জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে তাদের বাড়িতে একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠক হয়। ওই বৈঠক থেকেই তার কাকির সঙ্গে সুজনের পরিচয় হয়। পরে ফেসবুকে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রবাসী স্বামী দেশের বাইরে থাকার সুযোগে ওই নারী ও সুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শ্বশুরবাড়ির চাপে গৃহবধূর ফোন বন্ধ থাকায় সুজন তাকে নতুন মোবাইলও কিনে দেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ওই গৃহবধূ জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। সুজন তার বাসায় একাধিকবার এসেছেন এবং তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন সুজন আকন। তিনি বলেন, আমরা সম্পর্কে দেবর-ভাবী। তিনি আমাকে মোবাইলে ডেকে নিয়েছিলেন। যারা ধরেছেন, তারা আগেই ওত পেতে ছিল।
সুজন আরও বলেন, আমি কোনো খারাপ কাজ করিনি। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
এদিকে, সুজন আকনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে দাবি করলেও দলটির স্থানীয় নেতৃত্ব তা অস্বীকার করেছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য শহীদ হোসেন বলেন, সুজন আকন আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে যান। তবে দলের কোনো পদে আছেন কি না জানি না।
সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. সেলিম শিকদার বলেন, সুজন সংগঠনের কেউ নন। কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা বা ছবি থাকলেই কেউ সংগঠনের নেতা বা কর্মী হয়ে যান না।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, একই কক্ষে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের পর গৃহবধূ বাদী হয়ে সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে এজাহার দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরআই/টিএ