© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হলের সহপাঠীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠাতেন ইবি ছাত্রী

শেয়ার করুন:
হলের সহপাঠীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠাতেন ইবি ছাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০৯ পিএম | ০৭ আগস্ট, ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে রুমমেট ও সহপাঠীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এটি নিয়ে হলটিতে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। ছাত্রীরা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তুবাউল জান্নাত ঐশী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ঐশী হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন।

সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান আবিদ। এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করেছেন অভিযোগকারীরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই জুলাই-৩৬ হলের ছাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জানা যায়, আবিদ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত ঐশীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময়ই তার কাছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ওই ব্যক্তি সেগুলোর কিছু অংশ হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীর কাছে পাঠিয়ে দেন। 

অভিযুক্ত তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, আমি পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে এসব ছবিগুলো তাকে পাঠিয়েছি।


সে আমাকে একেরপর এক ভিডিও কল দেওয়ায় আমি কোন পরিস্থিতিতে আছি সেটা বুঝাতে রুমমেটদের ছবি পাঠাতাম। এছাড়া তারাও (রুমমেট) ওই ছেলেকে চিনত। এমনকি সে দেশে আসলে তারা ওর সঙ্গে দেখা করে ট্রিট নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে সে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে এখন বিয়েতে রাজি হইনি। তাই সে এখন আমার বিভিন্ন সময়ে পাঠানো ছবিগুলো নিয়ে প্রত্যেককে ইনবক্স করে এসব শুরু করেছে। আমি খুব বাজেভাবে ফেসে গেছি। এখন আমার সরি বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
 
ঐশীর প্রেমিক লন্ডন প্রবাসী আবিদ বলেন, ‘ঐশীর একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেসবের ছবি, ভিডিও সহ সকল প্রমাণ আমার কাছে আছে। ঐশী অন্যান্য মেয়েদের ছবি পাঠালে আমি নিষেধ করলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়তো। মনে হতো যেন, এসব করে ও পৈশাচিক আনন্দ পায়। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এমনটা করতে পারে না। আমি ওই মেয়ের পিছনে অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট করেছি। দুইমাস আগে শুধু তার জন্যই আমি লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এখন তার আসল চরিত্র সবার সামনে প্রকাশ পাচ্ছে। এই মেয়ে আমার জীবনটাই নষ্ট করে দিয়েছে। আমি তার বিচার চাই।’ 

এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. একেএম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি জানতে এখন হলে যাচ্ছি। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন