স্ত্রীকে কু-প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৯ এএম | ১২ আগস্ট, ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশাচালক সুমন হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে নয়, নিজের স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় হত্যা করা হয় সুমনকে।
গত রোববার (৯ আগস্ট) রাতে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার বড়ইতলী গ্রামের ইমরুল হাসান মামুন (৪৪) ও টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার লোকেরপাড় এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৩০)।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে চন্দ্রা কালামপুর এলাকায় সুমনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন অভিযুক্তরা।
জানা গেছে, নিহত সুমন এবং অভিযুক্ত মামুন ও জাহিদুল একসঙ্গে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। গত কয়েকমাস আগে নিহত সুমন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে মামুন তার চিকিৎসার খরচ দেন। পরে সুমন সুস্থ হলে চিকিৎসাবাবদ বেশ কিছু টাকা দাবি করেন মামুন। এদিকে টাকা পরিশোধ করতে বিলম্ব হলে নিহত সুমনের স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেন তিনি। এর জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে পুলিশকে দেওয়া শাহানাজ বেগমের স্বীকারোক্তি মতে, কুপ্রস্তাবের বিষয়টি স্বামীকে জানালে মামুন ও সুমনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে চন্দ্রা থেকে যাত্রীবেশে ওই নিহত সুমনের অটোতে কয়েকজন যুবক কালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে অটোরিকশাটি দোকানপার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক সুমনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বাদি হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম পিপিএম বার জানান, ওই অটোরিকশাচালকের খুনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এফআর/টিএ