‘প্রযুক্তিই আজ আমাকে বাঁচিয়েছে’, স্বীকার করলেন স্টিভ স্মিথ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫১ পিএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বড়সড় জীবন পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। উইকেটের পেছনে ক্যাচের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেয়ার পর রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। টেলিভিশন রিপ্লেতে বল ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও অডিও প্রযুক্তিতে স্পষ্ট কোনো এজ ধরা পড়েনি। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। পরে স্মিথ নিজেই স্বীকার করেছেন, বলটিতে তার ব্যাটের কানায় স্পর্শ লেগেছিল বলেই মনে হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে এবাদত হোসেনের করা এক ডেলিভারিতে। বলটি স্মিথের ব্যাটের পাশ ঘেঁষে উইকেটকিপারের হাতে যাওয়ার পর ক্যাচের আবেদন করে বাংলাদেশ। আম্পায়ার আউট না দেয়ায় রিভিউ নেয় টাইগাররা। কিন্তু স্নিকোমিটারে স্পষ্ট কোনো শব্দ বা প্রমাণ না মেলায় বেঁচে যান স্মিথ।
দিন শেষে নিজের সেই জীবন পাওয়ার মুহূর্ত নিয়ে অকপট ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ম্যাচ-পরবর্তী আলাপচারিতায় তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি কি বলটি নিক করেছিলেন?’ স্মিথের সরল উত্তর, ‘আমার মনে হয়, হ্যাঁ।’
অর্থাৎ প্রযুক্তির সহায়তাতেই যে বেঁচে গেছেন, সেটিও মেনে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ওই মুহূর্তে বলের সঙ্গে কিছু একটা হওয়ার অনুভূতি তার হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিতে পরিষ্কার প্রমাণ না মেলায় শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তার পক্ষেই যায়।

এটাই অবশ্য স্মিথের একমাত্র জীবন ছিল না। ইনিংসের শুরুতেই আরেকবার বেঁচে যান তিনি। মাত্র ২ রানে থাকা অবস্থায় তৃতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ফেলেন বাংলাদেশের ফিল্ডার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ।
১০৯ বল মোকাবিলা করে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৭১ রান করেন তিনি। একসময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকে বড় করার আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে থামে তার লড়াই।
হাসান মাহমুদের অসাধারণ স্পেলের সামনে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের এই পেসার একাই শিকার করেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের সঙ্গে মিলে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করে প্রথম দিনেই দুর্দান্ত জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে ফিরে গেলেও তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৯৬ রানে। ফলে প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে ৯ উইকেট।
এমআর/টিএ