ব্রিটিশ রেসিং ড্রাইভারকে বিয়ে করলেন মালয়েশিয়ার রাজকন্যা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৮ পিএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
মালয়েশিয়ার সাবেক রাজা ও পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহের মেয়ে রাজকন্যা টেংকু পুতেরি রাজা টেংকু পুতেরি ইলিয়ানা আলিয়াকে বিয়ে করেছেন ব্রিটিশ রেসিং ড্রাইভার ক্রিস ফ্রগ্যাট। গত ৭ আগস্ট কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে ইসলামি ও মালয় রাজকীয় ঐতিহ্য মেনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে সুলতান আবদুল্লাহ, পাহাংয়ের যুবরাজ টেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহসহ রাজপরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী ওয়ান রোসদি ওয়ান ইসমাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ মোহাম্মদ বিন হামাদ বিন তাহনুন আল নাহিয়ান।
বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার আগে ক্রিস ফ্রগ্যাট সুন্নত নামাজ আদায় করেন। পরে নবদম্পতি আংটি বদল করেন এবং ‘মাস কাহউইন’ নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বিয়ের উপহার বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মোনাজাতের পাশাপাশি মালয় রাজপরিবারের বিভিন্ন প্রথাগত আচারও পালন করা হয়। এর মধ্যে ‘মেরেনজিস’ অনুষ্ঠানে নবদম্পতির ওপর পানি ছিটিয়ে আশীর্বাদ করা হয়।

রাজকন্যা ইলিয়ানা বিয়ের অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ডিজাইনার রাদজুয়ান রাদজিউইলের নকশা করা গাউন পরেছিলেন। তার মাথায় ছিল রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী ‘রানি আজিজাহ ডায়মন্ড টিয়ারা’। ব্রাসেলসের বেলজিয়ান জুয়েলার্স ওলফার্স থেকে সংগ্রহ করা এই বংশানুক্রমিক রত্নটি এর আগেও পাহাং রাজপরিবারের সদস্যদের বিয়েতে ব্যবহৃত হয়েছে।
ইলিয়ানা ও ফ্রগ্যাট তাদের সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন অনেকটাই গোপন রেখেছিলেন। ফলে বিয়ের আগে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।
৩২ বছর বয়সী ক্রিস ফ্রগ্যাট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জিটি রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জিটি ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ ইউরোপ এন্ডুরেন্স কাপ। ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কোয়াড বাইক ও মোটোক্রস চালানোর অভিজ্ঞতাও তার গতির প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
তবে তুলনামূলকভাবে দেরিতে, ২৪ বছর বয়সে পেশাদার গাড়ি রেসিংয়ে প্রবেশ করেন ফ্রগ্যাট। ইতালির ফিওরানো টেস্ট ট্র্যাকে এক বন্ধুর অতিথি হিসেবে ফেরারি চালানোর অভিজ্ঞতা তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তীতে একটি বড় ফেরারি ড্রাইভিং ইভেন্টে অংশ নেওয়ার পর তিনি মোটর রেসিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিয়ের পর পাহাং রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে নবদম্পতির সুখ, কৃপা ও দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। তাদের পরিবার যেন ‘সাকিনাহ, মাওয়াদ্দাহ ওয়া রাহমাহ’তে পরিপূর্ণ হয় এমন শুভকামনাও জানানো হয়েছে।
এসএ/টিএ