© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাস্তায় নামবেন আফ্রিদি

শেয়ার করুন:
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাস্তায় নামবেন আফ্রিদি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০৮ পিএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করা হবে।

আফ্রিদি বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।

ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নাম থাকলেও তাকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারাগারের পরিস্থিতি দেখে তার দাবি, ইমরানের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।

সাক্ষাতের অনুমতি না দিলে পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন আফ্রিদি। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি।

আফ্রিদির দাবি, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তার ভাষায়, দিনটি কর্তৃপক্ষের জন্য ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে এবং বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।

পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে এরই মধ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে ইমরানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। আগামী রোববার বান্নুতেও রাজপথে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আফ্রিদি।

ইমরানের সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই আফ্রিদির এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ইসলামাবাদ হাইকোর্ট পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে এবং পরদিন দলীয় নেতাদের সঙ্গে ইমরানের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। 

তবে আফ্রিদির অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তার দাবি, তিনজন বিচারকের আদেশ অনুযায়ী সপ্তাহে দুবার ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করা হলেও আদালতও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

আফ্রিদি আরও দাবি করেন, সরকারের মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন যে দেশ ও এর শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে কাজ না করলে সেগুলো চালু রেখে জনগণের অর্থ অপচয়ের কোনো অর্থ নেই। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কর দেয় এবং সেই অর্থই সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যয় করা হয়।

আফ্রিদির দাবি, প্রধানমন্ত্রীও ইমরানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে তাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠকের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি সরকারের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

সূত্র: ডন

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন