ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার ঘটনায় টেনেসির কারা প্রধানের পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০০ এএম | ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। খবর বিবিসির।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানান টেনেসির গভর্নর বিল লি। স্ট্রাডা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যের স্বার্থে সরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে ঘটনাটির স্বাধীন তদন্তকে তিনি প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।
১৯৯৬ সালে কলেজছাত্রী কলিন স্লেমার হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি টেনেসির একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর গভর্নর বিল লি একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।
পাইকের আইনজীবীরা কারা প্রধানের পদত্যাগকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করলেও বলেছেন, এতে ক্রিস্টার বর্তমান পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। তাদের দাবি, এ ঘটনা টেনেসির মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন।
আইনজীবীদের ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইককে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পুরো সময় কাঁদছিলেন, গোঙাচ্ছিলেন এবং জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশনে ছিলেন।
তবে টেনেসি কারা বিভাগ ব্যবহৃত প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রটোকলের বাইরে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, ভবিষ্যতে আবারও পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না। কী কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক তার তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হন। পরের বছর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী বন্দি।
কেএন/এসএন