আমি মরিনি, বারে মদ পান করে অসুস্থ হয়েছিলাম: ভাইরাল সেই তরুণী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০২ পিএম | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে দুই যুবকের মাঝে মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় বসে থাকা যে তরুণীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, তিনি থানায় এসে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, পারিবারিক চাপের কারণে বাসা থেকে বের হয়ে একটি বারে গিয়ে মদ পান করেছিলেন তিনি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে যান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পারিবারিক চাপ সামলাতে না পেরে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে জসীমউদ্দীনের একটি বারে গিয়ে মদ পান করেন। এতে তিনি মাতাল ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই তরুণী বলেন, আমাকে কেউ জোর করে মদ খাওয়ায়নি। আমি নিজেই মদ খেয়েছি। পরে অসুস্থ হয়ে যাই। আমার চাচাকে ফোন দিলে তিনি এসে আমাকে নিয়ে যান। গাড়িতে ওঠা পর্যন্ত আমার জ্ঞান ছিল। এরপর আর আমার জ্ঞান ছিল না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তার সাবেক স্বামীই তার মৃত্যুর তথ্য ছড়িয়েছেন। এ কারণেই নিজের অবস্থান জানাতে থানায় এসেছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি মরিনি। আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই আমি থানায় এসে সবাইকে জানাতে চেয়েছি যে আমি বেঁচে আছি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজহার ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া ওই তরুণী শনিবার থানায় এসেছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, বোনের সঙ্গে রাগ করে তিনি একটি বারে যান এবং সেখানে মদ পান করে অচেতন হয়ে পড়েন।
এসআই আজহার ইসলাম বলেন, পরে তাকে বোনের বাসায় না নিয়ে এক বন্ধুর বাসায় নেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় ওই তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি নিজের অবস্থান জানাতে থানায় এসেছিলেন।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে ওই তরুণীকে বসা অবস্থায় দেখা যায়। সে সময় তাকে অনেকটা অচেতন বা নিস্তেজ মনে হচ্ছিল।
ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মাদ্রাসাতুল মাদীনা-বগুড়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মনোয়ার হোসেন মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করেন। পরে তিনি ঘটনার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
এফআর/এসএন