© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় ডেনমার্কের সেনা মোতায়েন

শেয়ার করুন:
গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় ডেনমার্কের সেনা মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪৯ এএম | ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ডে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সৈন্যদের মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ডেনিশ দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের দাবি করার পর কোপেনহেগেন এই পদক্ষেপ নিল।

বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্স সূত্রে জানা যায়, যদিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুরু থেকেই ট্রাম্পের সেই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ডেনমার্কের নতুন ও বর্ধিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের অংশ এই সৈন্যরা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে কাজ করার মতো দক্ষ সৈন্য তৈরি করতে চায় কোপেনহেগেন। এ বিষয়ে ১৯ বছর বয়সী সৈন্য ডেভিড বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের উপস্থিতি জানান দেওয়া হয় যে আমরা এখানে আছি।

আমরা কেবল নিজেদের স্বার্থ নয়, গ্রিনল্যান্ডের মানুষের কথাও ভাবছি। পূর্বে এই অঞ্চলে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের কথা স্বীকার করে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আর্কটিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে শত শত কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বর্তমানে সৈন্যরা চরম ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় যুদ্ধ ও টিকে থাকার জন্য ‘আর্কটিক অ্যান্ডুরেন্স’ নামক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। ন্যাড়া পাথর আর গাছপালাহীন খোলা প্রান্তরে তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ চলছে।

সৈন্যদের কম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন লরা জেপসেন জানান, বিশাল কৌশলগত যোগাযোগের অংশ হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিরূপ ভূখণ্ড ও জলবায়ুতে সৈন্যদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করা। এই প্রশিক্ষণটি ন্যাটোর ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মিশনের অন্তর্ভুক্ত, যা ট্রাম্পের মন্তব্যের পর জোটটির আর্কটিক উপস্থিতি বাড়াতে এবং নিজেদের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমিত করতে এ বছর শুরু হয়েছে।

এদিকে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে ন্যাটোর বাড়বাড়ন্তকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে রাশিয়া, যারা আর্কটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি ধরে রেখেছে। রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও মস্কোর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই অঞ্চলে কার্যকলাপ বাড়িয়েছে। তবে সব চাপ সামলে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে কোপেনহেগেন।

২২ বছর বয়সী সৈনিক আন্তনের মতে, এটি এই বার্তাই দেয় যে, ডেনমার্ক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে শক্তিশালী করছে।

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন