নেপালের সুড়ঙ্গে আটকে ৪৬ শ্রমিক, জীবিত থাকার আশা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৮ পিএম | ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের এক সপ্তাহের বেশি সময় পরও একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ কক্ষে আটকে থাকা অন্তত ৪৬ শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ওই শ্রমিকরা আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির বোর্ড সদস্য আমশু কিরণ শাহী বলেন, এক সপ্তাহ পার হলেও তারা ওই শ্রমিকদের জীবিত থাকার বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ, ভবনের ভেতরে তাদের জন্য খাবার ও পানি থাকার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে নেপাল ও চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় গলতে থাকা একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল নামে। এতে ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদীর তীরে নির্মিত বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এখনও অন্তত ৬৩৯ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস থাকার কারণে রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আপার ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্পে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪৬ জন একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে জীবিত থাকতে পারেন বলে বুধবার কর্মকর্তারা জানান। ভারী যন্ত্রপাতি ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, আপার ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেও ৩০ থেকে ৪০ জন জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে সুড়ঙ্গের ভেতরে একটি শুকনো জায়গা থাকার তথ্য পাওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন।
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা থাকা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। অভিযানে নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ, কারিগরি বিশেষজ্ঞসহ ভারত, চীন, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ২৭০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভয়াবহ এ পাহাড়ি ঢলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
এমআর/টিএ