© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রতিবন্ধী অধিকার সংসদীয় ককাসের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত

শেয়ার করুন:
প্রতিবন্ধী অধিকার সংসদীয় ককাসের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৩ পিএম | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত-কে আহবায়ক করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি সেলিমা রহমান ও জামায়াতের মহিলা শাখার সম্পাদক এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকীকে সহ-আহ্বায়ক নির্বাচন করা হয়েছে।

শনিবার ( ৫ সেপ্টেম্বর ) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা নিছক ভাতার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সংবিধানে পূর্ণ সমান অধিকার রয়েছে।  

তিনি বলেন, পৃথিবীতে ‘প্রতিবন্ধী’ বলে আলাদা কিছু নেই, যা আছে তা হলো আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা। মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবকাঠামোগত বাধার কারণেই মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়। তাই সমাজের মনোজগতের পরিবর্তন ও ভৌত বাধাগুলো দূর করে প্রতিটি নাগরিকের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। 



ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ

সভায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরো অংশ নেন, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান; অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী; ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম; মোস্তফা নাজমুন নাহার; নুরুন্নিসা সিদ্দিকী; নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি; নীলুফার চৌধুরী মনি; সানসিলা জেবরিন; এবং তাসমিয়া প্রধান। পাশাপাশি ওপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাঙ্গন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী এমপিরা এই উদ্যোগের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সংসদ সদস্যরা একমত হন যে, প্রতিবন্ধী অধিকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে থাকা উচিত এবং আইন প্রণয়ন, নীতি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।

সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি সংগঠন, ওপিডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এই ককাসকে সংসদীয় তদবির জোরদার করার ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিনির্ধারণী এই কমিটির পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও পুরোদমে কাজ করছে। গত ছয় মাসে এই দুই কমিটি চারবার বৈঠকে বসে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিবন্ধিতাকে বহুমাত্রিক বা ‘ক্রস-কাটিং’ ইস্যু উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক জনসাস্থ্যবিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ডিস্যাবিলিটি রাইটস নিশ্চিত করা কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; এখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) সারা দেশে যত নতুন স্থাপনা নির্মাণ করবে, সবগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে র‍্যাম্প, লিফট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেটের ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ৫০০টি উপজেলা হাসপাতালে যে ১৫০ শয্যার আধুনিক ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে, তার নকশায় শুরু থেকেই প্রবেশগম্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন সব বিদ্যালয়ে র‍্যাম্পের পাশাপাশি বিশেষ উপযোগী টয়লেট নির্মাণও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কারের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর গণপরিবহনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে প্রায় ২০০টি আধুনিক এসি বাস নামানো হচ্ছে, যা সরাসরি হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠার উপযোগী হবে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া ২৫ শতাংশ ভাড়ার ছাড় ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে জাতীয় সংসদ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত এমপি। 

তিনি বলেন, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের কার্যক্রমে অবিলম্বে সার্বক্ষণিক ইশারা ভাষা চালু করতে হবে এবং সংসদের দর্শক গ্যালারিতে যাতে হুইলচেয়ার নিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন, সেই পথ সুগম করতে হবে। 

উন্নয়ন সংক্রান্ত যেকোনো আইন বা প্রকল্প আলোচনার সময় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চার দলের সংসদ সদস্যদের সংসদে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বয়স বাড়লে প্রতিটি মানুষকেই বার্ধক্যজনিত কোনো না কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, ফলে এটি জীবনেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন বা আইসিএফ কাঠামোর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ যদি সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য পরিবেশ নিশ্চিত করে, তবে কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতাই আর মানুষের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করতে পারে না। তাই সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান সুযোগ, মর্যাদা ও পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত ককাসটির ভূমিকা, দায়িত্ব এবং কার্যাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে এই ককাস প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন ও নীতির পক্ষে কাজ করতে, মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক প্রতিবন্ধিতা বাজেট বরাদ্দকে উৎসাহিত করতে, প্রতিবন্ধীতা- ম্পর্কিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের তদারকি জোরদার করতে পারে তা তুলে ধরেন এবং আইনপ্রণেতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ওপিডি), সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা সহজতর করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন ।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী আইন প্রণয়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করলেও, একটি সংসদীয় ককাস রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখতে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যক্রম সমন্বয় করতে এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তি দৃঢ় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারবে ।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সাইটসেভার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অফ পার্টি আমিনুল এহসান এবং বারডো -এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন