© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাতের ঘড়িই কি আড়িপাতা গুপ্তচর? অ্যাপলের নতুন এআই ফিচার নিয়ে গোপন নজরদারির আতঙ্ক!

শেয়ার করুন:
হাতের ঘড়িই কি আড়িপাতা গুপ্তচর? অ্যাপলের নতুন এআই ফিচার নিয়ে গোপন নজরদারির আতঙ্ক!

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ
০৮:২৮ পিএম | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আপনার অজান্তেই কি কেউ আপনার সব কথা শুনছে? নতুন অ্যাপল ওয়াচের চমকপ্রদ কিছু এআই ফিচার প্রযুক্তি দুনিয়ায় ঠিক এই প্রশ্নটিকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে। অ্যাপল দাবি করেছে তাদের এই ঘড়িগুলো কোনো ধরনের ভয়েস রেকর্ড বা অডিও ফাইল সংরক্ষণ করে না। তবে আশপাশের কথোপকথনের সারসংক্ষেপ তৈরি এবং মুহূর্তের মধ্যে কথাকে লেখায় রূপান্তরের সক্ষমতা সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি করেছে গভীর উদ্বেগ।

টেকক্রাঞ্চের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অ্যাপল ওয়াচের এই নতুন সুবিধাগুলো এমন এক বিপজ্জনক ধারণাকে স্বাভাবিক করে তুলছে—যেখানে প্রযুক্তি সবসময় আমাদের কথা শুনছে।

অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ডিভাইসে যুক্ত ‘অডিও ইন্টেলিজেন্স’ সুবিধা আশপাশের কথাবার্তা বিশ্লেষণ করতে পারে। যেমন—‘লাইভ রিওয়াইন্ড’ ফিচারের মাধ্যমে মাত্র একটি বাটন প্রেস করেই শেষ ১৫ সেকেন্ডে বলা কোনো কথা সরাসরি লেখায় (ট্রান্সক্রিপ্ট) পরিণত করা যায়। এ ছাড়া রয়েছে ‘সিরি রিক্যাপ’, যা বৈঠকের বা আলোচনার চুম্বক অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোট আকারে সাজিয়ে দিতে সক্ষম।

অ্যাপল আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, তাদের তৈরি নতুন চিপসেটের মধ্যে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘সিকিউর এক্সক্লেভ’ রাখা হয়েছে। সেখানে প্রসেস হওয়া কোনো অডিও কোম্পানি নিজেও শুনতে পায় না এবং ডিভাইস থেকে কোনো ভয়েস ফাইল অন্য কোথাও পাঠানোও হয় না। ব্যবহারকারী চাইলে এই ফিচারগুলো বন্ধও রাখতে পারেন।

তবে প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভ্রু কুঁচকে গেছে এখানেই। তাঁদের মতে, প্রযুক্তি কোনো রেকর্ড জমিয়ে রাখছে কি না, মূল প্রশ্ন শুধু তা নয়। প্রশ্ন হলো—মানুষের পারস্পরিক সম্মতি ও স্বাধীন আচরণের পরিবেশ। যখন একজন ব্যক্তি জানবেন যে পাশে থাকা কারও ঘড়ি প্রতিটি শব্দ সতর্কভাবে শুনছে ও বিশ্লেষণ করছে, তখন স্বাভাবিক মানবিক সম্পর্কের খোলামেলা কথোপকথন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

মেটার স্মার্ট চশমা বাজারে আসার পর ক্যামেরা ও আড়িপাতা নজরদারি নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, অ্যাপলের এই নতুন পদক্ষেপ যেন সেই আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল। সুবিধার আড়ালে ব্যক্তিজীবন কি তবে চিরতরে কোনো অদৃশ্য মাইক্রোফোনের কাছে বন্দি হতে চলেছে? প্রযুক্তিপ্রেমী ও সমাজ বিশ্লেষকদের কাছে এখন এটাই সবচেয়ে বড় রহস্য ও উদ্বেগের বিষয়।

তবে গোপনীয়তার বিতর্কের বাইরে কর্মব্যস্ত মানুষের জীবনে এই এআই উইজেটগুলো দারুণ স্বস্তি এনে দেবে। ঘড়ির ডায়ালে থাকা ইনস্ট্যান্ট উইজেটে মাত্র এক ট্যাপেই জরুরি মিটিং বা ক্লাসে মিস হয়ে যাওয়া কথা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সংক্ষিপ্ত নোট ও কাজের তালিকা; এমনকি আলাদা করে ফোন বা নোটবুক ছাড়াই সময় ও পরিস্থিতি বুঝে উইজেটগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য সামনে এনে দৈনন্দিন কাজকে করবে অনেক বেশি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন