© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মেদ কমানোর অস্ত্রোপচারে ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

শেয়ার করুন:
মেদ কমানোর অস্ত্রোপচারে ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫৫ পিএম | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে লিপোসাকশন বা অতিরিক্ত মেদ কমানোর অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে ২৭ বছর বয়সী ইনফ্লুয়েন্সার অলিভিয়া ওরাসের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওরাস একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরিকল্পিত লিপোসাকশন করাতে গিয়েছিলেন। অ্যানেস্থেশিয়া দেয়ার পরই তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাকে হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ওরাসের পরিবার উত্তর খুঁজতে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। হেলসিঙ্কি পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানোর মতো অতিরিক্ত তথ্য তাদের হাতে নেই। সম্ভাব্য গুরুতর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

পুলিশ হেলসিঙ্কির ওই প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেখানে চিকিৎসকদের কার্যক্রমের কারণে রোগীদের গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল বলে তারা মনে করছেন। লিপোসাকশন শরীরের নির্দিষ্ট অংশ থেকে অতিরিক্ত চর্বি অপসারণের একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। সাধারণত চর্বি কমানোর উদ্দেশ্যে এটি করা হলেও, অন্য যেকোনো অস্ত্রোপচারের মতো এরও ঝুঁকি রয়েছে।

ওরাস মাত্র ১৪ বছর বয়সে অনলাইনে নিজের দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরে পরিচিতি পান। ১৬ বছর বয়সে তিনি ‘দ্য পারফেক্ট সেলফি’ নামের ২০১৬ সালের একটি তথ্যচিত্রে অংশ নেন। তবে অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপের কারণে পরে তিনি তীব্র উদ্বেগে ভুগেছিলেন এবং নিজের অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলেন। পরবর্তীতে তিনি আমস্টারডামে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেন। পরে এক বন্ধুর আত্মহত্যার ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি হেলসিঙ্কিতে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসেন। এরপর মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধে আসক্তির সঙ্গে লড়াই করেন।

এ ঘটনায় চিকিৎসা নিরাপত্তা, অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবস্থাপনা এবং অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে রোগীর পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা কারও দায় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এখন।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন