হাসিনাকে রাজনীতির সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার আপত্তি আছে: স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৮ এএম | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সৎ, প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কারও সঙ্গে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ চায় না, দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে যে ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক থাকা উচিত, সেই সম্পর্কই চায়। পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয় বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও কিছু রিজার্ভেশন বা আপত্তি রয়েছে।
সোমবার ভোলায় চার দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউজে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। তবে ভারতও যে এখন পর্যন্ত সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ এমন সম্পর্ক চায় না।
ব্রিকস প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভারতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি স্তর, বিভাগ ও এলাকায় ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির উন্নতি হতে সময় লাগবে। সাত মাস এ কাজের জন্য খুবই অল্প সময় হলেও সরকার সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।
সংস্কারের ক্ষেত্রে আইন-কানুনে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে কীভাবে এই সংস্কার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো তারা একমত হতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলো দ্রুত সমঝোতায় আসবে। এতে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের বঞ্চনা ও দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।
আগামী সংসদ অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দল সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করে জনগণকে গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, একটা স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সুন্দর বোঝাপড়া থাকে তাহলে দেশ উন্নয়নের পথে যেতে পারবে। কিন্তু এক বছর না যেতেই যদি ক্ষমতার লোভ কাউকে পেয়ে বসে বা ক্ষমতায় আরোহণের জন্য কেউ যদি পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে চায় তাহলে হয়তো দেশবাসীর কপালে দুঃখ আছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৭০ কিলোমিটার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন : লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, ‘সবুজ, সুসজ্জিত ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের উভয় পাশে ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সোমবার সকালে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের ডাওরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদ, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এফআর/এসএন