© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ডিজিটাল টিকিটিংয়ে বদলাবে গণপরিবহন, বাড়বে ভাড়ায় স্বচ্ছতা

শেয়ার করুন:
ডিজিটাল টিকিটিংয়ে বদলাবে গণপরিবহন, বাড়বে ভাড়ায় স্বচ্ছতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫৬ পিএম | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ডিজিটাল টিকিটিংয়ে জীবন বদলায় ভাড়ায় স্বচ্ছতা, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, যাত্রী চলাচলের তথ্য ও উন্নত পরিকল্পনার সুযোগ দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। 

কাগজের টিকিটের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, তথ্যনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে ডিজিটাল টিকিটিংকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মাধ্যমে ভাড়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে রুট পরিকল্পনা, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব।
তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে শুধু প্রযুক্তি চালু করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন পরিবহন ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য লেনদেন, সব পক্ষের সুবিধাজনক নীতি প্রণয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

বুধবার রাজধানীতে সদ্য যাত্রা শুরু করা নীতি সংলাপ প্ল্যাটফর্ম বেঞ্চমার্ক ডায়ালগ আয়োজিত ‘ডিজিটাল টিকিটিং টু ট্রান্সফর্ম লাইভস’, পাওয়ার্ড বাই সহজ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বেঞ্চমার্ক ডায়ালগের চেয়ারম্যান আশরাফ কায়সার।

ডিজিটাল টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম সহজ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাত, যাত্রী কল্যাণ সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ডিজিটাল টিকিটিং নিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন সহজ ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কর্নেল (অব.) মো. আমিনুল হক। এছাড়াও ডিজিটাল টিকিটিংয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন সহজ ডটকমের পরিচালক (টিকিট) শাকিল জোয়াদ রহিম।

‘ডিজিটাল টিকিটিং হতে হবে সমন্বিত’ 

আলোচনা শুরুতে দেশের অন্যতম বাস অপারেটর শ্যামলী পরিবহনের পরিচালক রজত ঘোষ বলেন, পরিবহন খাতের প্রকৃতিই হচ্ছে এটি সবসময় চলমান, ফলে দীর্ঘদিন ধরে খাতটি অনেকটাই এলোমেলোভাবে পরিচালিত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে টিকিটিং ব্যবস্থাকে শতভাগ ডিজিটালাইজেশনে এনে একটি শৃঙ্খলার প্রয়োজন রয়েছে। ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবের সময়ে অনলাইনে টিকিটের চাহিদা বাড়লেও স্বাভাবিক সময়ে অনেক যাত্রী এখনো কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটেন। তাই যত্রতত্র কাউন্টার না রেখে টার্মিনালভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে টিকিটিংকেও শতভাগ ডিজিটালাইজ করা যাবে।

আলোচনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক ও উদ্যোক্তা ফজলুল হক বলেন, অনলাইন টিকিটিং বা ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সরকার এ বিষয়ে সক্রিয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এর সঙ্গে রয়েছে। এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে পুরো ব্যবস্থাকে অনলাইনভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।

চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি বলেন, ইউটিলাইজারদের আচরণ, বিশেষ করে টিকিট নিয়ে দামাদামির প্রবণতা। কাউন্টারে দরকষাকষির সুযোগ থাকায় অনেকেই অনলাইনে যেতে আগ্রহী হন না, যা এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করে। এগুলোকে একটা শৃঙ্খলায় আনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং অপারেটরদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকেও নেতৃত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সমস্যাটি শুধু রেগুলেশনের নয়, ক্যাশ মুভমেন্ট ও লেনদেন ব্যবস্থাপনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিআরটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শুকদেব ঢালী বলেন, বিআরটিসির কার্যক্রম, বিশেষ করে টিকিটিং সিস্টেমকে ডিজিটালাইজ করার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। পিংক বাসে ইতোমধ্যে পুরোপুরি অনলাইন টিকিটিং চালু হয়েছে। ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মাধ্যমে একজন যাত্রী যখন নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করেন, তখন তার কাছে অর্থটি যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা তৈরি হয়। এর ফলে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব। সাধারণ মানুষের হাতে এখন স্মার্টফোন রয়েছে, ফলে অনলাইনে যাওয়ার বাস্তব প্রয়োজন ও সুযোগ দুটিই তৈরি হয়েছে।

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনন্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনে পুরোপুরি পিছিয়ে নেই; বরং বড় ঘাটতি রয়েছে একটি কার্যকর ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে। শুধু ডেটা সংগ্রহ করলেই হবে না, সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবহার করতে হবে। কোন রুটে কখন বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে, কোন সময়ে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা সম্ভব। বাস অপারেটরদের জন্যও এ ধরনের ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সরকারকেও ডেটা ব্যবহার করে পরিবহন পরিকল্পনা করতে হবে। যেসব রুটে বেশি চাপ, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যাত্রী নিরাপত্তা ও সেফটি ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

যাত্রীদের সুবিধা ও তথ্যের নিরাপত্তায় প্রাধান্য

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, ই-কমার্স খাতে অতীতে স্ক্যামের ঘটনা ডিজিটাল ব্যবস্থায় জবাবদিহির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। তাই টিকিটিংসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো যতটা সম্ভব স্বয়ংক্রিয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল ও অ্যানালগ—দুই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন পাশাপাশি চলতে থাকলে মানুষ ডিজিটাল ব্যবস্থায় পুরোপুরি আসতে আগ্রহী হবে না। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনোভাবেই তা যেন বেহাত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, দুর্নীতি কমানো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় অবশ্যই ভোক্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান যাত্রীদের স্বার্থের বিষয়টি সামনে এনে বলেন, পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করা এবং যাত্রীদের ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনাও যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা, তাই ডিজিটাল টিকিটিংয়ের পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রয়োজন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিভিন্ন দেশে গেলে বোঝা যায়, ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে মানুষের যাতায়াত কতটা সহজ ও ঝামেলামুক্ত হতে পারে। দেশে ট্যাক্স দেওয়া, ব্যাংকিং এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা যখন অনলাইনে যাচ্ছে, তখন পরিবহন খাতকেও আরও সংগঠিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। তবে ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে ইনক্লুসিভিটি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সবাই এই সেবা ব্যবহার করতে পারে। যাত্রীদের জন্য প্রক্রিয়াটি হ্যাসেল-ফ্রি করতে হবে এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।পাশাপাশি প্রাইসিং ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে এবং মানুষের ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি কার্যকর ডিজিটাল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শুধু টিকিট বিক্রি নয়, যাত্রী চলাচলের ধরন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব। কোন রুটে কত যাত্রী চলাচল করেন, কোন সময়ে যাত্রীর চাপ বেশি, কোথায় অতিরিক্ত বাসের প্রয়োজন এবং কোন রুটে সেবার ঘাটতি রয়েছে—এসব তথ্য ভবিষ্যৎ পরিবহন পরিকল্পনায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন শাখার সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দিন বলেন, সরকারের ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেমে যেতে হবে। একজন নাগরিক যেন একটি মাত্র সিস্টেমকে চেনেন এবং ব্যবহার করেন; তাকে যেন একাধিক আলাদা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে পরিচিত হতে না হয়। তবে এর ব্যাকএন্ডে একাধিক সার্ভিস প্রোভাইডার ও বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট মেথড থাকতে পারে। ভবিষ্যতে টিকিটের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবাকে একটি বান্ডেলের মাধ্যমে দেওয়ার সুযোগও তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ডেটার ব্যবস্থাপনা করতে হবে এবং বিশেষ করে সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন পেমেন্টের সঙ্গে ডেটা সিকিউরিটির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেনা কল্যাণ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের বিজনেস ডিভিশন ৭-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খালেদ কামাল বলেন, পুরো পৃথিবী অটোমেশনের দিকে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশেও ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে। রেলওয়ে ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে এবং সড়ক পরিবহনের ভালো অপারেটররাও ধীরে ধীরে এ ব্যবস্থায় আসছে। নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করলে পরিবহন খাতে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জও আছে। অনেক যাত্রীর এখনো ডিজিটাল টিকিটিং নিয়ে অনীহা বা ভীতি রয়েছে—টিকিট কাটার পর সত্যিই সিট পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ থাকে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল টিকিটিং চালু করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সাধারণ যাত্রীর জন্য নতুন কোনো জটিলতা তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সহজ ব্যবহার, সেবার সহজলভ্যতা, নিরাপদ লেনদেন এবং ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে কম অভ্যস্ত যাত্রীদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ফ্যান্টাসি আইল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর (অব.) মাকসুদুর রহমান আদনান বলেন, দেশে চার শতাধিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক রয়েছে এবং এ খাতের বার্ষিক বাজার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এসব সেবা গ্রহণ করেন। এখন মানুষ ঘরে বসেই পার্কের টিকিট কাটছেন। এই ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে ইউনিফায়েড বা ইউনি-কার্ড ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যেখানে সহজের মতো প্ল্যাটফর্মও যুক্ত হতে পারে। এতে বিভিন্ন সেবাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত এখনো উন্নত বিশ্বের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। অন্যরা বাংলাদেশকে নিয়ে পরিকল্পনা করলেও দেশের ভেতর থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বিমানকে এ ক্ষেত্রে আরও আগে এগিয়ে আসার সুযোগ ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স এগিয়ে যাচ্ছে। অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা ওটিএ নিয়েও বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে। অথচ ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার ফলে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার পরিবর্তে আরও সহজ ও আধুনিক সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, ডিজিটাল টিকিটিং বাস্তবায়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা প্রযুক্তি কোম্পানির একার দায়িত্ব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি নীতিগত সহায়তা, পরিবহন মালিকদের অংশগ্রহণ, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, যাত্রীদের আস্থা, সর্বপরি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়।

গোলটেবিল আলোচনা থেকে অংশগ্রহণকারীরা সুপারিশ করেন, বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমানসহ দেশের সব গণপরিবহনে শতভাগ ডিজিটাল টিকিটিং বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে যাত্রীর নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে ভাড়া আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রির সঠিক তথ্যের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রাজস্ব ফাঁকি কমানো, পরিবহন মালিকদের ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং শ্রমিকদের আয়-সুবিধা আরও স্বচ্ছ করার সুযোগ তৈরি হবে। যাত্রী চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে রুট ও পরিবহন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও তথ্যনির্ভর করে তোলা সম্ভব হবে।

বেঞ্চমার্ক ডায়ালগ আয়োজিত ‘ডিজিটাল টিকিটিং টু ট্রান্সফর্ম লাইভস’ গোলটেবিলের লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং তথ্যের ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। এটি ডিজিটাল টিকিটিং নিয়ে ধারাবাহিক সংলাপের প্রথম আয়োজন।

পরবর্তী সংলাপগুলোতে সরকারের রাজস্ব আদায় আরও কার্যকর করা, যাত্রী নিরাপত্তা এবং গণপরিবহন খাতের প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ রোডম্যাপসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন