ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় আরও মেট্রোরেল প্রয়োজন: সাকি
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৯ এএম | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গণপরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও নগর চলাচল ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকা আরও মেট্রোরেল নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বড় শহরেও মেট্রোরেল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নগরায়ন দ্রুত বাড়ছে এবং আধুনিক গণপরিবহনের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এখন মেট্রোরেল নির্মাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি মেট্রোরেল নির্মাণ করেছি, ট্রেন চলছে এবং মানুষ এর সুফল ভোগ করছে। এখন মেট্রোরেল নির্মাণের বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের নিজেদের তৈরি করতে হবে।’
ভবিষ্যৎ প্রকল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে সাকি বলেন, ‘এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিদেশি কারিগরি দক্ষতার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।’
মেট্রোরেল-৫-এর সাউদার্ন রুটের ব্যয় অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় বেশি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের আওতা, ভূগর্ভস্থ নির্মাণ, বিস্তারিত নকশা, অর্থায়নের শর্ত, বিনিময় হার, মূল্যস্ফীতি ও করসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্প ব্যয়ে পার্থক্য হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় প্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। তবে পরিকল্পনা কমিশন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে একনেকে উপস্থাপনের আগে ব্যয় কমিয়েছে। এ ছাড়া একটি কারিগরি কমিটিও প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয় বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে।’
প্রকল্পটির জন্য উচ্চ ব্যয়ে কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিয়োগ পেয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি কেবল অনুমোদিত হয়েছে। অনুমোদনের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে, এরপর দরপত্রের নথি প্রস্তুত করা হবে এবং পরে ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে।’
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সাকি বলেন, ‘জাপানের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে অর্থায়নের শর্তে পরিবর্তন এসেছে। আগে সুদের হার প্রায় ০.৭ শতাংশ বিবেচনা করা হলেও তা বেড়ে প্রায় ৩.০৫ শতাংশ হয়েছে। চুক্তি সম্পাদনে আরও বিলম্ব হলে জাইকা সুদের হার পুনরায় পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে সরকার যতটা সম্ভব দর-কষাকষি করেছে।’
চলমান কিছু মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় অনেক সময় প্রাথমিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের সময় অতিরিক্ত প্রয়োজনীয়তা ও কাজের পরিধিতে পরিবর্তন ধরা পড়ে। এতে প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।’
ভূগর্ভস্থ স্টেশন আরও গভীরে নির্মাণ, অতিরিক্ত অবকাঠামো এবং কাজের পরিধি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার প্রকল্প প্রস্তুত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে।’
এফআর/টিএ