আইনমন্ত্রীজামায়াতকে প্রগতিশীল ইসলামিক দলে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখতেন রাজ্জাক, এ বই তারই বহিঃপ্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৫ পিএম | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীকে প্রতিক্রিয়াশীলতার বৃত্ত থেকে বের করে একটি ইসলামিক প্রগতিশীল দলে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখতেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাজ্জাক সাহেবের লেখা বইটি সেই চিন্তা ও প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের বর্তমান মূলধারার আইনজীবী ও নেতৃত্বের যারা সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন অঙ্গনে পরিচিত, তাদের এ আলোচনায় উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা ছিল। তাদের উপস্থিত না হওয়াকে তিনি তাদের ‘দৈন্যতা, ব্যর্থতা, সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের আদর্শিক পার্থক্যের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আদর্শগতভাবে রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে আমরা কখনও এক কাতারে ছিলাম না, এখনও নই। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল সব বাধার ঊর্ধ্বে।
তিনি আরও বলেন, আদালত অঙ্গনে রাজ্জাকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় তার পরামর্শকে নিজের জন্য ‘আলোর দিশারি’ হিসেবে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
বইটির প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এই বইটি শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী কাজ নয়; এটি একজন মানুষের জীবনের এনসাইক্লোপেডিয়ার মতো। একটি সমাজকে তিনি যেভাবে দেখেছেন, তার জীবনদর্শনের যে প্রতিফলন- এই বইয়ে সেটিই উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্জাকের বইয়ে ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে যে ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে তিনি ওপর থেকে ইসলাম চাপিয়ে দেওয়ার ধারণাকে ভুল বলেছেন। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়ে ওঠার কথা বলেছেন।
নিজের ছাত্রজীবনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’- এই স্লোগান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা যেতে পারে, তবে কোরআনকে সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য হলেও ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তন করা যায় না।
জামায়াত ও বিএনপি- দুই দলের সমালোচনা রাজ্জাকের বইয়ে রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতের ভিন্নতা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো দলের সমালোচনা গ্রহণ করতে না পারলে সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক ২০১৬ সালে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই অবস্থানের প্রতিফলন পরবর্তী সময়ে জামায়াতের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানেও দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইনমন্ত্রী দাবি করেন, ওই সংশোধনীর ক্ষেত্রে জামায়াত সংসদে ‘না’ ভোট দেয়নি।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে শুধু জামায়াতের নেতা হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব কর্ম ও চিন্তার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থাকা অবস্থায় কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা ও কথা হয়েছে। শেষবার হাসপাতালে থাকা অবস্থায় রাজ্জাক নিজের শেষ ইচ্ছা হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও একই সঙ্গে বইটিকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য অবশ্যপাঠ্য হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।
এমআর/টিএ