© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন আজ

শেয়ার করুন:
নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৭ এএম | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন আজ (১৯ সেপ্টেম্বর)। সময়ের হিসাবে তিনি আমাদের মাঝে নেই প্রায় তিন দশক। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তা র জনপ্রিয়তায় যেন ভাটা পড়েনি এতটুকুও। বরং নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও তিনি এখনো ‘সালমান শাহ’ একটি নাম, একটি স্টাইল, একটি আবেগ।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি পরবর্তীতে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সালমান শাহ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ার, হাতে গোনা কিছু চলচ্চিত্র তবু বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর প্রভাব এত দীর্ঘস্থায়ী, যা অনেক দীর্ঘ ক্যারিয়ারের তারকার ক্ষেত্রেও বিরল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢাকাই চলচ্চিত্রে যখন নায়ক চরিত্রের প্রচলিত চেহারা ছিল অনেকটাই নির্দিষ্ট, তখন সালমান শাহ এলেন একেবারে ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব নিয়ে। তাঁর পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন, হাসি, রোমান্টিক অভিব্যক্তি সবকিছুতেই ছিল নতুনত্ব।



১৯৯৩ সালে কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনীত সেই ছবিই তাঁকে রাতারাতি দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে তার অভিনয় এবং উপস্থিতি তাকে পরিণত করে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন হিসেবে।  সালমান শাহ শুধু একজন নায়ক ছিলেন না  তিনি ছিলেন সে সময়ের তরুণদের ফ্যাশন ও রুচির একটি বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর পরা পোশাক, চুলের কাট, সানগ্লাস কিংবা ক্যাজুয়াল লুক সবই দর্শকের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করত।

সালমান শাহর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা। প্রেমিক, সাধারণ তরুণ, আবেগপ্রবণ যুবক কিংবা পারিবারিক টানাপোড়েনে থাকা মানুষ বিভিন্ন চরিত্রে তাকে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্নভাবে।
স্বপ্নের ঠিকানা, স্বপ্নের পৃথিবী, আনন্দ অশ্রু, চাওয়া থেকে পাওয়া কিংবা সত্যের মৃত্যু নেই তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সেই বৈচিত্র্যের ছাপ পাওয়া যায়। তার অভিনয়ে অতিরঞ্জিত নায়কোচিত ভঙ্গির বদলে অনেক সময় দেখা গেছে স্বাভাবিকতা। ক্যামেরার সামনে তার সাবলীল উপস্থিতি এবং চোখের অভিব্যক্তি ছিল দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির অন্যতম শক্তি।


সালমান শাহর জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার চলচ্চিত্রের গানগুলোর সম্পর্কও ছিল গভীর। তার অভিনীত সিনেমার গান শুধু সিনেমার অংশ হিসেবে নয়, আলাদা সাংস্কৃতিক স্মৃতি হিসেবেও দর্শকের কাছে জায়গা করে নেয়। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে শাবনূর, মৌসুমী, শাবানা, ববিতা, সোনিয়া ও অন্যান্য অভিনেত্রীদের উপস্থিতি নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে তৈরি করেছিল নানা জনপ্রিয় জুটি ও গল্প। বিশেষ করে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। পর্দায় তাদের রসায়ন নব্বইয়ের দশকের প্রেমের গল্পের একটি পরিচিত প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

সালমানের সিনেমার গান ও রোমান্টিক দৃশ্যে সালমান শাহর উপস্থিতি নব্বইয়ের দর্শকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছিল। ছবি: সংগৃহীত

সালমান শাহর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। ১৯৯৩ সালে শুরু হয়ে ১৯৯৬ সালে তার আকস্মিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই পথচলা থেমে যায়। এই অল্প সময়ে তিনি অভিনয় করেন প্রায় তিন ডজন চলচ্চিত্রে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাঁর বয়স তখন মাত্র ২৫ বছর।

একজন তরুণ তারকার এমন আকস্মিক মৃত্যু তার ভক্তদের কাছে ছিল গভীর ধাক্কা। এরপর কেটে গেছে বহু বছর। প্রজন্ম বদলেছে, চলচ্চিত্রের প্রযুক্তি বদলেছে, দর্শকের রুচিও বদলেছে। কিন্তু সালমান শাহকে ঘিরে মানুষের আবেগ যেন একই জায়গায় রয়ে গেছে। সালমান শাহ চলে গেছেন বহু বছর আগে। কিন্তু তার তারুণ্য, তার হাসি, তাঁর অভিনয় আর তার পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের কাছে জীবন্ত। সময়ের স্রোতে অনেক তারকা হারিয়ে যান। সালমান শাহ হারিয়ে যাননি তিনি রয়ে গেছেন। পর্দায়, স্মৃতিতে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভালোবাসায়।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন