© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বলিভিয়ার মেঘবনে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরনো খুদে বিড়াল!

শেয়ার করুন:
বলিভিয়ার মেঘবনে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরনো খুদে বিড়াল!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪৩ পিএম | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার ঘন মেঘাচ্ছন্ন বনে সন্ধান মিলেছে নতুন এক প্রজাতির খুদে বুনো বিড়ালের। স্থানীয়ভাবে ‘তিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই বিড়ালের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Leopardus tilcayo।

গবেষকদের দাবি, এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর জীবিত একটি নতুন বিড়াল প্রজাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত ও বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণনা করা হলো।

বলিভিয়ার পাহাড়ি ইউঙ্গাস অঞ্চলের আর্দ্র ও কুয়াশাচ্ছন্ন বন এই বিড়ালের আবাসস্থল। আকারে এটি বেশ ছোট। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন আনুমানিক ১ দশমিক ৪ কেজি। অর্থাৎ, অনেক সাধারণ পোষা বিড়ালের চেয়েও এটি ছোট।

হালকা বাদামি রঙের শরীরে অনিয়মিত গোলাকার ছোপ বা রোসেট রয়েছে প্রাণীটির। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার ও গবেষণাটির সহ-লেখক পাওলা নোগালেস-আসকারুঞ্জ জানান, বিড়ালটির বাহ্যিক সৌন্দর্য গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

তবে প্রাণীটির জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। গবেষকেরা এর বিষ্ঠা পরীক্ষা করে ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর অবশিষ্টাংশ পেয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীই এর প্রধান খাদ্য। ক্যামেরা ট্র্যাপের তথ্যও বলছে, এটি মূলত নিশাচর এবং রাতের বেলায় শিকারে বের হয়।

গবেষকেরা প্রথমে বিড়ালটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ব্রাজিলের টাইগার ক্যাটদের পার্থক্য লক্ষ্য করেন। এরপর বিষয়টি নিশ্চিত করতে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জোনাস লেসক্রোয়ার্ট ও পাওলা নোগালেস-আসকারুঞ্জের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৩৮টি বিড়ালের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন।

জেনেটিক বিশ্লেষণে উঠে আসে আরও বড় চমক। গবেষকদের মতে, এতদিন একক গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত টাইগার ক্যাট আসলে জিনগতভাবে স্বতন্ত্র পাঁচটি প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, বলিভিয়ার ‘তিলকায়ো’ প্রায় ১৪ লাখ বছর আগে অন্যান্য টাইগার ক্যাট থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র বিবর্তনীয় ধারায় এগিয়েছে। একই গবেষণায় পেরুর ইউঙ্গাস অঞ্চলে টাইগার ক্যাটের একটি নতুন উপ-প্রজাতিও শনাক্ত করা হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Leopardus tigrinus antisyuyo।

গবেষকদের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের বিস্তারিত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী Current Biology-তে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই প্রজাতির সন্ধান দক্ষিণ আমেরিকার জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় নতুন তথ্য যোগ করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

এসএন 

মন্তব্য করুন