অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য, মায়ের তিন দাবি
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৫ পিএম | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় দিনেও উত্তাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। এবার অপ্রতিমের মা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন এবং তিনটি দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে কুবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরেন তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার।
কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব, কুবি ইউনিটের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নেন।
এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন মামলার আরেক আসমি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) বলেও দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তার দ্বিতীয় দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারা প্রকৃতপক্ষে অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সর্বশেষ, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা।
ড. কামরুন নাহার বলেন, “আমি অপ্রতিমে মা’র সাথে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটা দাবি জানাতে বলেছেন; তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।”