জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে জনগণকে ‘কাইন্ড’ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৭ পিএম | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে জনগণকে ‘কাইন্ড’ (দয়ালু) হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছে এটুকু কাইন্ডনেস চাইবো। জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা আগেও যখন তেল নিয়ে কথা বলেছি, এটি শুধু আমাদের দেশে হচ্ছে না। আমেরিকাতেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার চেষ্টা করেছেন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কারণ মিডটার্ম নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মিডটার্ম নির্বাচন নেই, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার কোনো কারণ নেই। কারণ এই সরকার আগের সরকারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্যাকেজ করে অর্থ নিয়ে কাউকে জিতিয়ে দেওয়ার পথে যাবে না। একটি নির্বাচন হবে, তাই এখানে ঝুঁকি আছে। সেই ঝুঁকি নেই—এমনটা বলছি না।
তবে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আবারও বলছি, জনগণের একটু কাইন্ড (দয়ালু) হওয়া দরকার। কারণ সরকারের পক্ষে সবসময় কতটা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব—সেটিও বিবেচনা করতে হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই
জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত বা চাপ নেই উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আইএমএফের সাধারণ নীতি হলো, কোনো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়। তবে আমরা সব ক্ষেত্রে তাদের সব নিয়ম মেনে চলছি—এমন নয়। আমাদের বিভিন্ন কার্ড প্রকল্পের ক্ষেত্রেও আইএমএফের পুরোপুরি সম্মতি নেই। কিন্তু জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই আমরা এসব উদ্যোগ নিচ্ছি।
ভর্তুকি নয়, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় ভারসাম্য জরুরি
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মূল পার্থক্য হলো, আগের সরকারকে জনগণ নিজেদের সরকার হিসেবে গ্রহণ করেনি। তারা বৈধ বা নির্বাচিত সরকার ছিল না। আর বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত।
তিনি আরও বলেন, সংকটের সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সব দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। একটি খাতে বেশি ভর্তুকি দিলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমে যেতে পারে।
পে-স্কেল, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে যা বললেন
জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে কোনো পে-স্কেল সংশোধন হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, ফলে নতুন সরকারি চাকরিজীবীদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ককটেল-বাসে অগ্নিসংযোগ প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই। বিরোধীদল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
এমআই/টিএ