© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মা ও ভাতিজিকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছে ইমন

শেয়ার করুন:
মা ও ভাতিজিকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছে ইমন
মোবাইল জার্নালিস্ট, কুমিল্লা
০৭:২৩ পিএম | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
​কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজ মা ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে ও আছাড় দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আটক যুবক ইমন মিয়া (২৯)। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য জানান আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান। এর আগে গতকাল সোমবার রা‌তে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ‌ফৌজদারী কার্য‌বি‌ধির ১৬৪ ধারায় তার জবানব‌ন্দি লি‌পিবদ্ধ করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত পৌ‌নে দশটার দি‌কে বিচারক তাঁকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ‌দি‌কে ময়নাতদন্ত শে‌ষে মঙ্গলবার পিয়ারা ও ইসরা‌তের লাশ স্বজন‌দের কা‌ছে হস্তান্তর করা হয়। বি‌কে‌লে জানাজা শে‌ষে তা‌দের পা‌রিবা‌রিক কবরস্থা‌নে দাফন করা হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জানান, মামলার তদন্তকারী অ‌ফিসার উপ পুলিশ পরিদর্শক বাঁধন দাস।

​ঘাতক ইমন মিয়া উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়ির মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছোট ছে‌লে। নিহত পিয়ারা বেগম ইম‌নের মা এবং শিশু ইসরাত জাহান ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে মারাত্মক আঘাত পান ইমন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও দুই দফা অস্ত্রোপচারেও সুস্থ‌্য না হ‌য়ে পায়ের যন্ত্রণা আরও বাড়তে থাকে। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও তীব্র যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

​গত রোববার রাতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মা পিয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাঁকে বাধা দেন। সোমবার সকালে ধারালো দা দিয়ে তাঁকে হত্যা করার জন্য মাকে বলেন। মা তা‌কে নিবৃত্ত করতে গেলে ইমন দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপা‌তে থা‌কেন। এ সময় শাশুড়িকে বাঁচাতে রাবেয়া বেগম ছুটে এলে তাঁর কোলে থাকা ৬ মাসের শিশু ইসরাতকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দেন ইমন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ভাতিজির মৃত্যু হয়। এরপর ভাবি রাবেয়াকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি।

​স্থানীয়রা রাবেয়াকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব‌্যরত চি‌কিৎসক।

​ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। খবর পেয়ে পিবিআই ও সিআইডির পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।

​দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পে‌য়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারায় মামলা করেছেন। 

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন