© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাত্র ৩ শিক্ষার্থী থেকে আজ ১৩৩৮, সাফল্যের গল্প গণউদ্যোগের

শেয়ার করুন:
মাত্র ৩ শিক্ষার্থী থেকে আজ ১৩৩৮, সাফল্যের গল্প গণউদ্যোগের
মোবাইল জার্নালিস্ট, কুমিল্লা
০৭:৫৪ পিএম | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তিন উপজেলার মোহনায় গড়ে ওঠা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে গ্রামের মেয়েরা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় নয়! খেলাধুলা, বিতর্ক, সংগীত, নৃত্য আর নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও এগিয়ে যাচ্ছে।   

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা বাজারের এই প্রতিষ্ঠানটির নাম গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা অর্জনে আলো ছড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার কলেজ ক্যাটাগরিতে পেয়েছে জেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি।   

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা বাজার। বাজারের একাংশ পড়েছে লাকসাম উপজেলায়, পূর্বে নাঙ্গলকোট উপজেলা। তিন উপজেলার মিলনস্থলের কাছেই কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। সড়কে পাশে গড়ে উঠেছে এই নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ছায়াঘেরা নির্মল পরিবেশ। সবুজের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা লাল রঙের ভবনগুলো যেন আলাদা করে জানান দিচ্ছে, শিক্ষার পাশাপাশি এখানে গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশও।



১৯৯৬ সালে এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিরা। শুরুতে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা শুরু হলেও বর্তমানে স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৩৮ জনে। ফলাফল,খেলাধুলা,বিতর্ক ও নাচ গানে জেলার সেরার তালিকায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হতে চান দেশসেরা।
 
শিক্ষার্থী মহিমা আক্তার, সুবর্ণা আক্তার ও অহনা মানসী জানান, ‘রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকরা আন্তরিক পাঠদান করেন। পৌনে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা ৩৫পর্যন্ত ক্লাস করান। তাদের অনুপ্রেরণায় আমরা নিয়মিত ভালো ফলাফল করছি। আমাদের সততা স্টোর রয়েছে, সেখানে আমরা নিজেরাই ক্রেতা ও বিক্রেতা। এছাড়া খেলাধুলায় আমরা জাতীয় পর্যায়েও ভালো করেছি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহফুজ খোকন জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও পশ্চাৎপদ নারীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। আমাদের একঝাঁক দক্ষ শিক্ষক রয়েছে। তারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধের মাধ্যমে ভালো ফলাফল করছেন।

অধ্যক্ষ রনজিৎ চন্দ্র দাশ বলেন, আমরা কম মেধাবী ও অধিকাংশ অচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছি। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষক হচ্ছেন একজন শিল্পী-যিনি চাইলে পাথরেও ফুল ফোটাতে পারেন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে এলাকার মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের পশ্চাৎপদ নারী শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠান দেশসেরা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠানটি ফলাফলে ভালো করছে। সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও তাদের সুনাম রয়েছে। তারা বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের দেখে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ভালো ফলাফল করবে বলে আশা করছি।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন